‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে আইনের উল্লেখ রয়েছে তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত আইনে গৃহীত দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা (১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ হলো বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক গভীর রাজনৈতিক ও মানসিক ঐক্যচেতনা। এই চেতনার মূল ভিত্তি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যবোধ, যা বাঙালি জনগণকে পাকিস্তানি শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং এর মাধ্যমেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় বিষয় ও প্রাদেশিক বিষয়ের ক্ষমতা বণ্টন এবং পরবর্তী প্রশ্নে দ্বৈতশাসনের উল্লেখ থাকায় এটি ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনকে (মন্ট্যাগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন) নির্দেশ করে।

    এই আইনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন: এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন (Dyarchy) চালু করা হয়। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (Transferred) এবং 'সংরক্ষিত' (Reserved) - এ দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
    ২. কেন্দ্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আইনসভাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা হয়। এর উচ্চকক্ষের নাম ছিল 'কাউন্সিল অব স্টেট' এবং নিম্নকক্ষের নাম ছিল 'লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি'।
    ৩. বিষয় বণ্টন: কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে কাজের পরিধি স্পষ্ট করার জন্য শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্রীয় বিষয় (যেমন: প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, রেলওয়ে ইত্যাদি) এবং প্রাদেশিক বিষয় (যেমন: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ইত্যাদি)- এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশসমূহে যে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, তা বিভিন্ন মৌলিক ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। নিম্নে এর ব্যর্থতার কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. অবাস্তব ও অযৌক্তিক বিষয় বণ্টন: শাসনব্যবস্থার বিষয় বণ্টন ছিল ত্রুটিপূর্ণ। আইন-শৃঙ্খলা, অর্থ এবং পুলিশ ছিল গভর্নরের নেতৃত্বাধীন সংরক্ষিত বিষয়ের অধীনে, অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মতো জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো ছিল মন্ত্রীদের অধীন হস্তান্তরিত বিষয়ে। ফলে অর্থের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া মন্ত্রীদের পক্ষে কোনো কাজ করাই সম্ভব ছিল না।
    ২. মন্ত্রীদের ওপর গভর্নরের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা: আইনত মন্ত্রীরা প্রাদেশিক আইনসভার কাছে জবাবদিহি করার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে গভর্নর মন্ত্রীদের পরামর্শ উপেক্ষা করার সর্বময় ক্ষমতা রাখতেন। গভর্নরের ভেটো ক্ষমতা মন্ত্রীদের স্বাধীনতা খর্ব করেছিল।
    ৩. আমলাদের অসহযোগিতা: সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত উভয় বিভাগের সচিব এবং উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ আমলাদের নিয়োগ দিতেন ভারত সচিব। ফলে তাঁরা নির্বাচিত ভারতীয় মন্ত্রীদের আদেশ বা পরামর্শের তোয়াক্কা না করে সরাসরি গভর্নরের সাথে যোগাযোগ রাখতেন।
    ৪. যৌথ দায়িত্বশীলতার অভাব: মন্ত্রিসভায় কোনো যৌথ দায়িত্বশীলতা ছিল না। মন্ত্রীরা দলগতভাবে নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে গভর্নরের অধীনে নিযুক্ত হতেন। ফলে মন্ত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের অভাব পরিলক্ষিত হয়।
    ৫. রাজনৈতিক দলসমূহের বর্জন ও বিরোধিতা: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই প্রহসনমূলক সংস্কার আইন প্রত্যাখ্যান করে এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। ফলে এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ পায়নি।

    সুতরাং, দায়িত্ব ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং ব্রিটিশ সরকারের ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার মানসিকতার কারণেই ১৯১৯ সালের দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন