ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি দেখে গ ও ঘ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

- ক)(1)
আউটসোর্সিং কী?
- খ)(2)
পদ আবর্তন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি ব্যবস্থাপনার কোন কাজটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে চিহ্নিত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের যে দুটি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তার তুলনামূলক বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্দিষ্ট কাজ নিজস্ব কর্মীদের দিয়ে না করিয়ে চুক্তির ভিত্তিতে বাইরের কোনো দক্ষ ব্যক্তি বা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়াকে আউটসোর্সিং (Outsourcing) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই পদমর্যাদায় কোনো কর্মীকে এক কাজ বা বিভাগ থেকে অন্য সমজাতীয় কাজ বা বিভাগে স্থানান্তর করাকে পদ আবর্তন (Job Rotation) বলে।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মীকে কাজের একঘেয়েমি থেকে মুক্ত রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজের সাথে পরিচিত করে বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। পদ আবর্তনের ফলে কর্মীর পদমর্যাদা বা বেতনের কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু তাঁর সামগ্রিক অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি ব্যবস্থাপনার 'কর্মীসংস্থান' (Staffing) কাজটিকে নির্দেশ করে।
প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ও দক্ষ জনশক্তি সংগ্রহ, নির্বাচন, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং তাদের উন্নয়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলির সমষ্টিকে কর্মীসংস্থান বলে। সঠিক পদে সঠিক ব্যক্তি নিয়োগ নিশ্চিত করাই এ কাজের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের চিত্রে কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক ধাপগুলো প্রদর্শিত হয়েছে। এখানে প্রথমে 'মানবসম্পদ পরিকল্পনা' প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস থেকে 'কর্মী সংগ্রহ' করা হয়। এরপর সংগৃহীত প্রার্থীদের মধ্য থেকে যোগ্য কর্মী বাছাই বা 'কর্মী নির্বাচন' এবং নির্বাচিত কর্মীদের কাজে বহাল বা 'কর্মী নিয়োগ' দেওয়া হয়। পরিশেষে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন' নিশ্চিত করা হয়েছে। এ সমস্ত কার্যক্রম কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ায় এটি নিশ্চিতভাবেই ব্যবস্থাপনার কর্মীসংস্থান কাজকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের যে দুটি কৌশলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে তা হলো— 'কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ' (On-the-job training) এবং 'কাজের বাইরে প্রশিক্ষণ' (Off-the-job training)। নিচে এদের তুলনামূলক বিচার করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ করার পাশাপাশি যে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাকে কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বলে (যেমন: শিক্ষানবিশি প্রশিক্ষণ, পদ আবর্তন, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি)। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রের বাইরে সম্পূর্ণ আলাদা পরিবেশে তাত্ত্বিক ও বাস্তবিক জ্ঞান দেওয়ার কৌশলকে কাজের বাইরে প্রশিক্ষণ বলে (যেমন: বক্তৃতা পদ্ধতি, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, অনুকরণীয় পদ্ধতি)।
২. ব্যয়ের পরিমাণ: কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণে আলাদা কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন হয় না বলে এটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। পক্ষান্তরে, কাজের বাইরে প্রশিক্ষণে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক নিয়োগ, ভেন্যু ভাড়া ও উপকরণ বাবদ অধিক ব্যয়ের প্রয়োজন হয়।
৩. উৎপাদনশীলতা ও কাজের ক্ষতি: কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণে কর্মীরা সরাসরি উৎপাদন কাজে অংশ নেন, ফলে উৎপাদন অব্যাহত থাকে; তবে অনভিজ্ঞতার কারণে অপচয় বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। কাজের বাইরে প্রশিক্ষণে কর্মীরা সাময়িকভাবে মূল কাজ থেকে বিরত থাকেন বলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হলেও কোনো ব্যবহারিক অপচয় হয় না।
৪. উপযুক্ততা: সাধারণত নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের প্রযুক্তিগত বা ব্যবহারিক কাজের জন্য কাজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বেশি কার্যকর। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা বা নির্বাহীদের মানসিক দক্ষতা, নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজের বাইরে প্রশিক্ষণ অধিক উপযোগী।
সারসংক্ষেপে, দুটি পদ্ধতির উদ্দেশ্য কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো হলেও প্রয়োগক্ষেত্র, ব্যয় ও পদ্ধতির দিক থেকে এরা ভিন্ন এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নে উভয় পদ্ধতিই পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও