অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
জনসংখ্যার ঘনত্ব কী?
- খ)(2)
কীভাবে মানবসম্পদ তৈরি করা যায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তত্ত্বটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত রেখাচিত্রের b এবং c এর ব্যবধান দূর করা যায় কীভাবে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের বা অঞ্চলের প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে যত জন লোক বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপযুক্ত শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টির উন্নয়নের মাধ্যমে কোনো দেশের সাধারণ জনসংখ্যাকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করে মানবসম্পদ তৈরি করা যায়। মানবসম্পদ তৈরির মূল লক্ষ্য হলো মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি থমাস রবার্ট ম্যালথাসের 'জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Malthusian Theory of Population)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তত্ত্বটির ব্যাখ্যা:
১৭৯৮ সালে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাস তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Essay on the Principle of Population'-এ এ তত্ত্বটি উপস্থাপন করেন। এ তত্ত্বের মূল বক্তব্য হলো:
১. কোনো প্রকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকলে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ জনসংখ্যা বাড়ে ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২, ৬৪... এভাবে। প্রতি ২৫ বছরে কোনো দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়।
২. অপরদিকে, জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর থাকায় খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারে বাড়ে। অর্থাৎ খাদ্য উৎপাদন বাড়ে ১, ২, ৩, ৪, ৫... এভাবে।উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে সময় (T) এবং লম্ব অক্ষে জনসংখ্যা ও খাদ্য (P/F) নির্দেশ করা হয়েছে। দেখা যায়, ২৫ বছর পর্যন্ত জনসংখ্যা ও খাদ্য সমান থাকলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে (১০০ বছরে) জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে 'b' বিন্দুতে এবং খাদ্য উৎপাদন তুলনামূলক ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে 'c' বিন্দুতে পৌঁছেছে। ফলে খাদ্য ও জনসংখ্যার মধ্যে এক বিরাট ঘাটতি বা ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। অতএব, চিত্রটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উল্লিখিত রেখাচিত্রে 'b' বিন্দু দ্বারা জনসংখ্যা এবং 'c' বিন্দু দ্বারা খাদ্য উৎপাদন (বা শস্য) নির্দেশ করা হয়েছে। এদের মধ্যকার ব্যবধান হলো জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের চরম ভারসাম্যহীনতা বা খাদ্যাভাব। এই ব্যবধান দূর করার উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও জনসংখ্যা রোধ (নিবারক ব্যবস্থা):
ম্যালথাসের মতে, সচেতনতামূলক ব্যবস্থা যেমন—দেরিতে বিবাহ, নৈতিক সংযম, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ এবং ছোট পরিবার গঠনের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে 'b' বিন্দুকে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও জন্মহার নিয়ন্ত্রণ করাই ভারসাম্য রক্ষার প্রধান উপায়।২. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি:
আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজ, রাসায়নিক সার, উন্নত সেচ প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি করে 'c' বিন্দুকে ঊর্ধ্বমুখী করা যায়, যার ফলে উৎপাদন গাণিতিক হারের চেয়েও দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।৩. অনাবাদি জমি চাষ ও কৃষি বহুমুখীকরণ:
দেশের অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শস্যের বহুমুখীকরণ ঘটিয়ে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করা যায়।৪. প্রাকৃতিক প্রতিরোধ:
ম্যালথাসের মতে, মানুষ নিজে থেকে সচেতন না হলে প্রকৃতি নিজেই মহামারি, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধবিগ্রহ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনসংখ্যা ধ্বংস করে এই ব্যবধান দূর করে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।অতএব, কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে 'b' এবং 'c' এর ব্যবধান দূর করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও