সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্য-১:দৃশ্য-২:
বিষয় | ক অঞ্চল | খ অঞ্চল
বৈদেশিক সাহায্য | ২০% | ৮০%
কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি | ১৫% | ৮৫%
সামরিক বাহিনী | ১০% | ৯০%

- ক)(1)
ঐতিহাসিক ছয় দফা কত সালে ঘোষণা করা হয়?
- খ)(2)
জাতীয়তাবাদ হচ্ছে জাতীয়তা ও দেশপ্রেম- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্য-১-এ কোন আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্য-২-এ বর্ণিত অর্থনৈতিক বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক ছয় দফা ১৯৬৬ সালে ঘোষণা করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তাবাদ হলো এমন এক মানসিক বা আত্মিক অনুভূতি, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী নিজেদের অন্যান্য জনসমাজ থেকে পৃথক মনে করে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকে। এর সাথে যখন দেশপ্রেম, নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা যুক্ত হয়, তখনই তা কার্যকর জাতীয়তাবাদে রূপ নেয়। অর্থাৎ, অভিন্ন ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সূত্রে গড়ে ওঠা 'জাতীয়তা'-র চেতনার সাথে যখন দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা বা 'দেশপ্রেম' ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা যুক্ত হয়, তখন তাকে জাতীয়তাবাদ বলা হয়। তাই জাতীয়তাবাদ হচ্ছে মূলত জাতীয়তা ও দেশপ্রেমের সম্মিলিত রূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-১-এ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা রয়েছে— 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই', 'অ আ ক খ' এবং 'মাতৃভাষা বাংলা চাই'। এই স্লোগান ও বর্ণমালা ১৯৫২ সালের মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সুস্পষ্ট প্রতীক।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% মানুষের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত চালায়। বাঙালি জাতি নিজেদের মায়ের ভাষা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। দৃশ্য-১-এর প্ল্যাকার্ডগুলো বাঙালির সেই ভাষাভিত্তিক আত্মপরিচয় ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্য-২-এ বর্ণিত অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও প্রত্যক্ষ।
উদ্দীপকের ছকে 'ক অঞ্চল' ও 'খ অঞ্চল' বলতে যথাক্রমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে নির্দেশ করা হয়েছে। ছকে দেখা যায়, বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পেত মাত্র ২০% এবং পশ্চিম পাকিস্তান পেত ৮০%; কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে পূর্ব পাকিস্তান ১৫% এবং পশ্চিম পাকিস্তান ৮৫%; সামরিক বাহিনীতে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল মাত্র ১০% এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৯০%। এই চরম অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামরিক বৈষম্য বাঙালি জাতিকে শোষণের নিগড়ে বন্দি করে রেখেছিল।
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ছিল পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস (প্রধানত পাট রপ্তানি করে), অথচ সেই রাজস্বের সিংহভাগ ব্যয় করা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন ও সামরিক খাতে। বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরি ও সামরিক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত ছিল।
এই বৈষম্যের ফলেই বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও অর্থনীতিবিদরা 'দ্বি-অর্থনীতি তত্ত্ব' প্রণয়ন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে এই বৈষম্যের অবসানে ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' দাবি পেশ করেন, যা বাঙালির ম্যাগনাকার্টা হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালিরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রায় দেয়। পরিশেষে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালালে বাঙালিরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং, দৃশ্য-২-এর বৈষম্যই বাঙালির মধ্যে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার চেতনা তীব্র করে তুলেছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও