পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দূর্বাচারা গ্রামে শিক্ষিত যুবক ওয়ালিদ অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করল যে, গ্রামের গরীব কৃষকরা সুদখোর মহাজনদের থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ঋণের দায়ে কৃষকদের জমিজমা মহাজনরা গ্রাস করছে। ওয়ালিদ কৃষকদের সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলেন এবং সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি আন্দোলনের শহীদ হন।
- ক)(1)
কোন কর্মসূচিকে বাংলার মুক্তির সনদ বলা হয়?
- খ)(2)
নবাব আব্দুল লতিফকে বাংলা সৈয়দ আহমদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ওয়ালিদের কর্মকান্ডের সাথে তোমার পঠিত বইয়ের কোন নেতার আদর্শের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত নেতার কর্মকাণ্ড কী কেবল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল? তোমার মতামত তুলে ধর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচিকে বাংলার মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উত্তর ভারতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান যেভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে পুনর্জাগরণের সূচনা করেছিলেন, ঠিক তেমনি উনিশ শতকে বাংলার মুসলিম সমাজে নবাব আব্দুল লতিফ ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষার প্রচার ঘটিয়ে তাঁদের অগ্রযাত্রায় পথ দেখিয়েছিলেন। ১৮৬৩ সালে 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বাংলার মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই অসামান্য অবদানের কারণেই তাঁকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদ তিতুমীরের (সৈয়দ মীর নিসার আলী) আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের গভীর মিল রয়েছে।
তিতুমীর জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার, অতিরিক্ত খাজনা এবং মহাজনদের শোষণ থেকে গরীব কৃষকদের রক্ষার জন্য রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি সাধারণ কৃষকদের সংগঠিত করেন, তাদের লাঠি ও তলোয়ার চালনা শিখিয়ে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন এবং ব্রিটিশ ও জমিদারদের শোষণমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের ওয়ালিদও একইভাবে সুদখোর মহাজনদের শোষণ ও কৃষকদের জমি গ্রাসের বিরুদ্ধে কৃষকদের সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হন। তিতুমীরও বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে যুদ্ধ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেছিলেন। সুতরাং, ওয়ালিদের কর্মকাণ্ড তিতুমীরের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের আদর্শকেই প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তিতুমীরের কর্মকাণ্ড কেবল কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল না— এই বক্তব্যটি যথার্থ।
তিতুমীর প্রথমদিকে জমিদারদের অন্যায় কর (যেমন দাড়ির ওপর কর) এবং মহাজনদের চড়া সুদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাঁর এই প্রতিরোধ নিছক কৃষক স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন ছাড়িয়ে বৃহত্তর সামাজিক, ধর্মীয় সংস্কার এবং ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়।
তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে খাঁটি ইসলামি অনুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালান। পাশাপাশি তৎকালীন ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শক্তির গোলামি অস্বীকার করে বারাসাত ও সংলগ্ন এলাকায় এক বিকল্প মুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলেন। তিনি স্থানীয় জনগণকে আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন। বাঁশের কেল্লা স্থাপন করে ব্রিটিশ সৈন্য ও গোলাবারুদের বিরুদ্ধে তাঁর অসম যুদ্ধ ছিল মূলত ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক বীরত্বপূর্ণ জাতীয়তাবাদী প্রতিরোধ।
অতএব, স্পষ্টতই বলা যায় যে, তিতুমীরের আন্দোলন কেবল কৃষকদের স্বার্থ উদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সার্বিক সামাজিক সংস্কার ও ব্রিটিশবিরোধী মুক্তি সংগ্রামের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও