মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রকল্প কী?
- খ)(2)
পরীক্ষণকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এর ছকটি দ্বারা চল্ নিয়ন্ত্রণের কোন কৌশলটিনির্দেশ করে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর A ও B বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকল্প (Hypothesis) হলো কোনো গবেষণা বা পরীক্ষণের সম্ভাব্য ফলাফল বা ঘটনা সম্পর্কিত এমন একটি আনুমানিক বা সাময়িক ধারণা, যার সত্যতা প্রমাণের জন্য পরীক্ষণ বা পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরীক্ষণ হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে গবেষক নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অনির্ভরশীল চলের প্রভাব নির্ভরশীল চলের ওপর পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো যেমন— সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ, পুনরুক্তিকরণ (Replication) এবং ফলাফলের যাচাইয়যোগ্যতা— পরীক্ষণ পদ্ধতিতে পুরোপুরি বজায় থাকে। এ কারণেই পরীক্ষণকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এর ছকটি দ্বারা চল্ নিয়ন্ত্রণের 'যুগলকরণ' বা 'জোড় মেলানো' (Matching) কৌশলটিকে নির্দেশ করে।
মনোবৈজ্ঞানিক পরীক্ষণে মধ্যবর্তী চল বা বাহ্যিক চলের প্রভাব দূর করার জন্য পরীক্ষণ দল ও নিয়ন্ত্রিত দল গঠন করা হয়। এই দল দুটিকে বৈশিষ্ট্যগতভাবে সমপর্যায়ের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো যুগলকরণ (Matching)। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষণ দল ও নিয়ন্ত্রিত দলের সদস্যদের বয়স, লিঙ্গ, বুদ্ধি, শিক্ষা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সমান ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, লিঙ্গভেদে পরীক্ষণ দলে ১০ জন পুরুষ ও ১৫ জন মহিলা এবং নিয়ন্ত্রিত দলেও সমানভাবে ১০ জন পুরুষ ও ১৫ জন মহিলা নেওয়া হয়েছে। এতে উভয় দলের লিঙ্গভিত্তিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি সমান ও তুলনীয় হয়েছে। ফলে লিঙ্গজনিত বাহ্যিক চলের প্রভাব ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে না। অতএব, এটি চল নিয়ন্ত্রণের যুগলকরণ (Matching) কৌশল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির দুটি রূপ 'A' ও 'B' নির্দেশ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকের ভূমিকার ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা—
A: অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ (Participant Observation) এবং
B: অ-অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ (Non-participant Observation)।
(অথবা পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে 'স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণ' ও 'নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ' হিসেবেও বিশ্লেষণ করা যায়; তবে সাধারণত পর্যবেক্ষকের সক্রিয়তার ভিত্তিতেই এই দ্বি-বিভাজন অধিক প্রচলিত)।নিচে A ও B-এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. A - অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ: এই পদ্ধতিতে গবেষক বা পর্যবেক্ষক সরাসরি দল বা সম্প্রদায়ের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তাদের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করেন এবং একই সাথে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করেন। দলের সদস্যরা সাধারণত জানতে পারে না যে তারা পর্যবেক্ষণের অধীন। এর বড় সুবিধা হলো স্বাভাবিক ও কৃত্রিমতাহীন তথ্য পাওয়া যায়। তবে এর অসুবিধা হলো গবেষকের ব্যক্তিগত আবেগ বা পক্ষপাতিত্ব তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতাকে প্রভাবিত করতে পারে।২. B - অ-অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ: এই পদ্ধতিতে গবেষক দলের কার্যকলাপে সরাসরি অংশ নেন না। তিনি দূর থেকে বা আড়ালে থেকে (যেমন— একমুখী আয়নার পেছন থেকে বা ক্যামেরার সাহায্যে) পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে গবেষক সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ও নিরপেক্ষ থাকতে পারেন এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ সহজ হয়। তবে পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি বুঝতে পারলে অনেক সময় পাত্র-পাত্রীর স্বাভাবিক আচরণে কৃত্রিমতা চলে আসতে পারে।
সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২ এর A ও B হলো আচরণ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে যথাক্রমে অংশগ্রহণমূলক ও অ-অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, যা সমাজ ও মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও