পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সামাজিক মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি কয়টি ও কী কী? বর্ণনা কর।
- গ)(3)
'ক' দলীয় এবং 'খ' দলীয় ব্যবস্থার মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে? বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
ক' ও 'খ' ব্যবস্থার মধ্যে কোনটি তোমার নিকট গ্রহণীয়? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব চিন্তা-ভাবনা, বিশ্বাস ও মানদণ্ড যা সমাজ বা সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষের আচরণ ও কার্যাবলিকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে এবং ভালো-মন্দ বিচার করতে সহায়তা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি ৪টি। সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মূলনীতিগুলো হলো:
১. জাতীয়তাবাদ: ভাষা ও সংস্কৃতির অভিন্নতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ঐক্য।
২. সমাজতন্ত্র: শোষণমুক্ত সমাজ ও অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করা।
৩. গণতন্ত্র: মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতাপূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা: সকল ধর্মের স্বাধীনভাবে পালন নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দলীয় ব্যবস্থা নির্দেশ করে একদলীয় ব্যবস্থাকে এবং 'খ' দলীয় ব্যবস্থা নির্দেশ করে বহুদলীয় ব্যবস্থাকে। এ দুই ব্যবস্থার মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ হলো:
১. দলের সংখ্যা: একদলীয় ব্যবস্থায় সংবিধানে বা বাস্তবে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের বৈধতা থাকে। অপরদিকে, বহুদলীয় ব্যবস্থায় সংবিধানে একাধিক রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ ও অধিকার থাকে।
২. আদর্শ ও নেতৃত্ব: একদলীয় ব্যবস্থায় একক নেতার কর্তৃত্ব এবং একক দলীয় মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হয়। বহুদলীয় ব্যবস্থায় সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন আদর্শ ও বিকল্প নেতৃত্বের চর্চা হয়।
৩. গণতান্ত্রিক অধিকার ও পরমতসহিষ্ণুতা: একদলীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দলের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার থাকে না। বহুদলীয় ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক বিরোধী দল থাকে এবং ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
৪. সরকার পরিবর্তন: একদলীয় ব্যবস্থায় ব্যালটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। বহুদলীয় ব্যবস্থায় নিয়মিত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সরকার বদল করতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' (একদলীয়) ও 'খ' (বহুদলীয়) ব্যবস্থার মধ্যে আমার নিকট 'খ' দলীয় ব্যবস্থা অর্থাৎ বহুদলীয় ব্যবস্থা গ্রহণীয়।
কারণসমূহ:
১. গণতন্ত্রের বিকাশ: বহুদলীয় ব্যবস্থা আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এটি জনগণের বহুমুখী মতাদর্শ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটায়।
২. নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা: বহুদলীয় ব্যবস্থায় মানুষের মতপ্রকাশ, সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে। বিপরীতে একদলীয় ব্যবস্থা নাগরিক স্বাধীনতা হরণ করে।
৩. সরকারের জবাবদিহিতা: একাধিক দল থাকায় শক্তিশালী বিরোধী দলের মাধ্যমে সরকারি কাজের গঠনমূলক সমালোচনা হয়, ফলে সরকার দায়িত্বশীল থাকে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কমে।
৪. বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ: কোনো ক্ষমতাসীন দল ব্যর্থ হলে জনগণ বিকল্প দল ও নেতৃত্বকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারে।সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়ন থেকে বলা যায়, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বহুদলীয় ব্যবস্থাই কাম্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও