‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

এশিয়া মহাদেশের একটি অঞ্চলে ঔপনিবেশিক সরকার প্রায় ২০০ বছর শাসন ও শোষণের পর উক্ত অঞ্চলের জনগণের দাবি ও আন্দোলনের ফলে বাধ্য হয়ে একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ওই অঞ্চলটিকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করে স্বাধীনতা দেয়।

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লেখিত আইনটি ত্রুটিমুক্ত ছিল না তুমি কি একমত? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের পারস্পরিক অনৈক্য এবং পরিকল্পনার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতবিরোধের কারণে ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল।

    মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় অবিভক্ত ভারতের অধীনে দুর্বল কেন্দ্র এবং বাধ্যতামূলক গ্রুপিং ব্যবস্থার প্রস্তাব ছিল। মুসলিম লীগ গ্রুপিং পদ্ধতিকে পাকিস্তানের ভিত্তি হিসেবে দেখে প্রথমে গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে জওহরলাল নেহরুর এক বক্তব্যে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়া দেশীয় রাজ্যসমূহ এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে উভয় দলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, ফলে মিশনটি ব্যর্থ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ঔপনিবেশিক সরকার প্রায় ২০০ বছর শাসন ও শোষণের পর তীব্র আন্দোলনের মুখে একটি আইনের মাধ্যমে অঞ্চলটিকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করে স্বাধীনতা প্রদান করে।

    ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছর (১৭৫৭-১৯৪৭) ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রাখে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তীব্র স্বাধীনতা আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই 'ভারত স্বাধীনতা আইন' পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। অতএব, উদ্দীপকের বর্ণিত প্রেক্ষাপটটি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটি ত্রুটিমুক্ত ছিল না।

    উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
    ১. তড়িঘড়ি করে সীমান্ত নির্ধারণ: সিরিল র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে গঠিত সীমানা কমিশন ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে অত্যন্ত দ্রুত ও ত্রুটিপূর্ণভাবে পাঞ্জাব ও বাংলাকে বিভক্ত করে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত সংকট ও ছিটমহল সমস্যার সৃষ্টি হয়।
    ২. দেশীয় রাজ্যসমূহের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা: আইনটিতে দেশীয় রাজ্যগুলোকে ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো রাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার সুযোগ দেওয়া হয়, যা কাশ্মীর, হায়দরাবাদ ও জুনাগড়ের মতো জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের জন্ম দেয়।
    ৩. রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উদ্বাস্তু সংকট: কোনো সুষ্ঠু পুনর্বাসন বা নিরাপত্তার পরিকল্পনা ছাড়াই দেশভাগ হওয়ায় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় এবং লাখ লাখ মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়।
    ৪. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব: ভৌগোলিক সংযোগবিহীন এবং হাজার মাইলের ব্যবধানে অবস্থিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে একটি অবাস্তব রাষ্ট্রকাঠামো তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে বাঙালি জাতির ওপর নতুন শোষণ ও নিপীড়নের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

    সুতরাং, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন স্বাধীনতা এনে দিলেও তা নানাবিধ ত্রুটি ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পূর্ণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন