ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
সিলেটের হাওর এলাকায় জেলেরা আর্থসামাজিক কল্যাণের জন্য একটি সমবায় গঠন করেছেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত তাদের অর্জিত মুনাফার পরিমান ছিল নিম্নরূপ-তারা নূন্যতম হারের সঞ্চিতি তহবিল সংরক্ষণ করেন। মাছ সংরক্ষণে তারা ৪২,০০০ টাকা ব্যয়ে আইস বক্স তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তারা সঞ্চিতি তহবিল কাজে লাগাতে চাচ্ছেন।

- ক)(1)
সমভোটাধিকার কি?
- খ)(2)
উৎপাদক সমবায় সমিতির বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
সদস্য বিচারের উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের সমবায় সংগঠন।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সঞ্চিতি তহবিল নিয়ে আইস বক্স তৈরির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমবায় সমিতিতে শেয়ার সংখ্যার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি সদস্যের কেবল একটিমাত্র ভোট প্রদানের অধিকারকে সমভোটাধিকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উৎপাদকগণ নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে যৌথভাবে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে।
এ ধরনের সমিতিতে সদস্যরা মূলত ক্ষুদ্র উৎপাদক (যেমন- কৃষক, তাঁতি, জেলে ইত্যাদি)। তারা একত্রিত হয়ে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা উপকরণ সুলভে সংগ্রহ করে এবং উৎপাদিত পণ্য লাভজনক মূল্যে সরাসরি ভোক্তাদের নিকট বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে। ফলে উৎপাদন খরচ হ্রাস পায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়ে সদস্যরা ন্যায্যমূল্য লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদস্যদের পেশাগত প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের বিচারে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একটি 'মৎস্যজীবী বা উৎপাদক সমবায় সমিতি' (পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি)।
যে সমবায় সমিতিতে একই ধরনের অর্থনৈতিক পেশা বা জীবিকায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে একত্রিত হয়ে নিজেদের যৌথ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ অর্জনে কাজ করে, তাকে পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি বলে। এর মধ্যে মৎস্য শিকার ও জীবিকা নির্বাহের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে গঠন করলে তা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি হিসেবে পরিচিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সিলেটের হাওর এলাকার জেলেরা তাদের আর্থসামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেছেন। যেহেতু এখানে একই পেশার লোক তথা জেলেরা নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সমিতি গঠন করেছেন, তাই সদস্যের বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি একটি পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি বা মৎস্যজীবী/উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে সঞ্চিতি তহবিল দিয়ে আইস বক্স তৈরির সিদ্ধান্তটি আর্থিক সামর্থ্যের দিক থেকে সম্ভব হলেও সমবায় আইনের বিধিনিষেধ বিবেচনায় সম্পূর্ণ যৌক্তিক নয়।
বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী, অর্জিত বার্ষিক নিট মুনাফার ন্যূনতম ১৫% সংরক্ষিত বা সঞ্চিতি তহবিলে সংরক্ষণ করতে হয়।
উদ্দীপক অনুযায়ী, সমিতির অর্জিত মুনাফা:
২০১৭ সাল: ৪০,০০০ টাকা
২০১৮ সাল: ৫০,০০০ টাকা
২০১৯ সাল: ৬০,০০০ টাকা
২০২০ সাল: ৭০,০০০ টাকা
মোট মুনাফা = (৪০,০০০ + ৫০,০০০ + ৬০,০০০ + ৭০,০০০) = ২,২০,০০০ টাকা।যেহেতু সমিতি ন্যূনতম হারে সঞ্চিতি তহবিল সংরক্ষণ করে, তাই সঞ্চিতি তহবিলের হার ১৫%।
সুতরাং, ২০২০ সাল পর্যন্ত সঞ্চিতি তহবিলে মোট জমাকৃত অর্থ = ২,২০,০০০ টাকার ১৫% = ৩৩,০০০ টাকা।যদি সমিতি প্রচলিত পুরানো নিয়মের ন্যূনতম হার (যেমন ২০%) অনুসরণ করে থাকে:
তাহলে সঞ্চিতি তহবিলে মোট জমাকৃত অর্থ = ২,২০,০০০ টাকার ২০% = ৪৪,০০০ টাকা।বর্তমান সংশোধিত আইন (১৫%) অনুসারে তহবিলে জমার পরিমাণ ৩৩,০০০ টাকা, যা আইস বক্স তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৪২,০০০ টাকার চেয়ে কম। ফলে সঞ্চিতি তহবিল থেকে পুরো ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে, ২০% হারে সংরক্ষিত হলে তহবিলে থাকবে ৪৪,০০০ টাকা, যা থেকে ৪২,০০০ টাকা খরচ করা সম্ভব।
তবে সমবায় আইন অনুযায়ী, সঞ্চিতি তহবিল একটি সংরক্ষিত তহবিল যা মূলত ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবেলা বা মূলধন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; নিবন্ধকের অনুমোদন ব্যতিরেকে বা আইনগত নির্ধারিত ক্ষেত্র ছাড়া সঞ্চিতি তহবিলের অর্থ সরাসরি স্থায়ী সম্পদে রূপান্তর বা যথেচ্ছ খরচ করা যায় না। তাই আইনগত বিধি এবং বর্তমান নির্ধারিত ১৫% জমার হার বিবেচনা করলে সঞ্চিতি তহবিলের অর্থ দিয়ে আইস বক্স তৈরির সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি যৌক্তিক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও