যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণীর জন্ম, বৃদ্ধি ও মৃত্যু আছে। মানুষের প্রাণ খ. রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি কখন ঘটে? আছে। অতএব, অন্যান্য প্রাণীরও প্রাণ আছে।
- ক)(1)
অসাধু সাদৃশ্যানুমান কাকে বলে?
- খ)(2)
অবৈধ সামান্যীকরণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রতিফলিত আরোহটির মূল্য ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি অনাবশ্যক, অমৌলিক বা বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়, তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর যথাযথভাবে নির্ভর না করে বা অপর্যাপ্ত দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে তাড়াহুড়ো করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে যে যুক্তিদোষ ঘটে, তাকে অবৈধ সামান্যীকরণ বলে। যেমন— কতিপয় অলস ব্যক্তির আচরণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে 'সব মানুষই অলস'— এটি অবৈধ সামান্যীকরণের উদাহরণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি যুক্তিবিদ্যার 'সাধু সাদৃশ্যানুমান'-কে নির্দেশ করে।
যে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে মৌলিক ও আবশ্যিক গুণাবলির সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়, তাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে। এতে গৃহীত সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা খুবই উচ্চমাত্রার হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে জন্ম, বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর মতো মৌলিক ও আবশ্যিক শারীরিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য দেখানো হয়েছে। এই মৌলিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণীরও যে 'প্রাণ' রয়েছে— এই যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্তটি টানা হয়েছে। যেহেতু এখানে অমৌলিক বা বাহ্যিক কোনো সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করা হয়নি, বরং প্রাণ থাকার অপরিহার্য লক্ষণগুলোর ওপর ভিত্তি করা হয়েছে, তাই এটি একটি যথার্থ সাধু সাদৃশ্যানুমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিফলিত আরোহটি হলো 'সাধু সাদৃশ্যানুমান'। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও ব্যবহারিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে এর মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জ্ঞান সম্প্রসারণ: সাধু সাদৃশ্যানুমানের মাধ্যমে আমরা জানা বিষয়ের সাথে অজানা বিষয়ের মৌলিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করে অজানা বিষয় সম্পর্কে নতুন তথ্য জানতে পারি। উদ্দীপকে মানুষের জানা বৈশিষ্ট্যের সাথে তুলনা করে অন্যান্য প্রাণীর প্রাণের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
২. বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সহায়তা: বিজ্ঞানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের সূচনা হয়েছে সাদৃশ্যানুমানের মাধ্যমে। বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন মেঘের বিদ্যুৎ চমক ও সাধারণ বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের মধ্যে সাদৃশ্য দেখে বজ্রপাতের বৈদ্যুতিক রূপ আবিষ্কার করেছিলেন।
৩. ব্যবহারিক জীবনে উপযোগিতা: দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়ার পূর্বেই মানুষ সাদৃশ্যানুমানের ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
৪. সিদ্ধান্তের উচ্চ সম্ভাব্যতা: সাধু সাদৃশ্যানুমানে অমৌলিক বা কৃত্রিম বিষয় বাদ দিয়ে মৌলিক ও অভ্যন্তরীণ লক্ষণ বিচার করা হয়। ফলে এর থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দৃঢ় এবং সত্যের নিকটবর্তী হয়।
অতএব, সত্যের অনুসন্ধান এবং বৈজ্ঞানিক প্রকল্প গঠনে উদ্দীপকে উল্লিখিত সাধু সাদৃশ্যানুমানের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও