বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
বিজ্ঞান প্রশ্ন
- ক)(1)
কার্বন দূষণ কাকে বলে?
- খ)(2)
ইটের ভাটা এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
১নং চিত্রের দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
২নং চিত্রের দুর্যোগের কারণ এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে কার্বন দূষণ বলে।
- খ)
ইটের ভাটায় কয়লা, কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানো হয়। এর ফলে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাসগুলো বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড তৈরি করে এবং বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে। তাই ইটের ভাটা এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী।
- গ)
১নং চিত্রে ফাটলধরা শুকনো মাটি দেখা যাচ্ছে, যা খরার চিত্র। খরার ক্ষতিকর প্রভাব:
১. বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় জমিতে পানির অভাব হয়, ফলে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
২. নদী, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গিয়ে সেচ ও খাওয়ার পানির সংকট দেখা দেয়।
৩. ফসল কম হওয়ায় খাদ্যঘাটতি দেখা দেয়, যা কৃষক ও দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। - ঘ)
২নং চিত্রে কুণ্ডলীর মতো ঘূর্ণায়মান মেঘের স্যাটেলাইট ছবি দেখা যাচ্ছে, যা ঘূর্ণিঝড় (সাইক্লোন)।
কারণ:
১. সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশপাশের বাতাস সেদিকে ছুটে আসে এবং ঘুরতে ঘুরতে উপরে ওঠে।
২. সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হলে উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভূত হয়ে সুপ্ত তাপ ছাড়ে, ফলে বাতাস আরও উত্তপ্ত হয়ে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয় এবং ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। বঙ্গোপসাগরে সারা বছর এই তাপমাত্রা থাকে।রক্ষা পাওয়ার পদক্ষেপ:
১. পূর্বাভাস ব্যবস্থা জোরদার করে আগাম সতর্কসংকেত দেওয়া।
২. উপকূলীয় এলাকায় উঁচু ও মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া।
৩. জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে উপকূলে বাঁধ নির্মাণ ও প্রচুর গাছপালা লাগানো।
৪. রেড ক্রিসেন্ট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রস্তুতি কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।সুতরাং, ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব হলেও যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নিলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমানো যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও