যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: শিক্ষক ক্লাসে তার শিক্ষার্থীদের বললেন, কোনো জাতি বা শ্রেণি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে যেমন তার সংখ্যার দিকটি আমাদের জানা প্রয়োজন হয় তেমনি সে জাতি বা শ্রেণির সাধারণ ও আবশ্যকীয় গুণের দিকটিও জানা প্রয়োজন।দৃশ্যকল্প-২: মাসুম সাহেব তার স্ত্রীকে বললেন, কোনো কিছুর পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটলে তার গুণগত পরিবর্তনও ঘটে। যেমন: এক সময় আমাদের দেশে জনসংখ্যা কম ছিল কিন্তু তখন সৎ ও ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। অথচ বর্তমানে জনসংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সৎ ও ভালো মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
- ক)(1)
গুণবাচক পদ কী?
- খ)(2)
জাত্যর্থ ও জাত্যর্থক পদ কি একই অর্থবোধক?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষকের বক্তব্যে পদের কোন দুটি দিক নির্দেশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ মাসুম সাহেবের বক্তব্যে পদের যে দুটি পারস্পরিক সম্পর্ক নির্দেশিত হয়েছে, পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পদ কোনো বস্তুর গুণ বা গুণাবলিকে নির্দেশ করে, তাকে গুণবাচক পদ বলে (যেমন: সততা, শুভ্রতা, সৌন্দর্য)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, জাত্যর্থ ও জাত্যর্থক পদ এক অর্থবোধক নয়।
কোনো পদ যে সাধারণ ও আবশ্যিক গুণ বা গুণাবলিকে নির্দেশ করে, সেই গুণকে বলা হয় উক্ত পদের 'জাত্যর্থ' (যেমন: 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি')। পক্ষান্তরে, যে পদের জাত্যর্থ ও ব্যক্ত্যর্থ উভয়ই রয়েছে, অর্থাৎ যা একই সাথে বস্তু এবং তার আবশ্যকীয় গুণকে প্রকাশ করে, তাকে 'জাত্যর্থক পদ' বলে (যেমন: 'মানুষ' শব্দটি একটি জাত্যর্থক পদ)। সুতরাং, জাত্যর্থ হলো গুণ এবং জাত্যর্থক পদ হলো সেই গুণবিশিষ্ট পদ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ শিক্ষকের বক্তব্যে পদের 'ব্যক্ত্যর্থ' এবং 'জাত্যর্থ'—এই দুটি দিক নির্দেশিত হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় একটি পদের দুটি দিক বা অর্থ থাকে: সংখ্যার দিক এবং গুণের দিক।
১. ব্যক্ত্যর্থ (Denotation): একটি পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর আরোপিত হয়, অর্থাৎ পদের পরিমাণের বা সংখ্যার দিককে তার ব্যক্ত্যর্থ বলে। শিক্ষকের বক্তব্যে 'সংখ্যার দিকটি আমাদের জানা প্রয়োজন' দ্বারা ব্যক্ত্যর্থকে নির্দেশ করা হয়েছে।
২. জাত্যর্থ (Connotation): কোনো পদের দ্বারা নির্দেশিত শ্রেণির অন্তর্গত ব্যক্তিসমূহের সাধারণ ও আবশ্যিক গুণ বা গুণের সমষ্টিকে জাত্যর্থ বলে। শিক্ষকের বক্তব্যে 'সাধারণ ও আবশ্যকীয় গুণের দিক' উল্লেখ করার মাধ্যমে পদের জাত্যর্থকে নির্দেশ করা হয়েছে।সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এ পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের দিক দুটি স্পষ্টভাবে নির্দেশিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ মাসুম সাহেবের বক্তব্যে পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যকার বিপরীতমুখী বা ব্যস্তানুপাতিক হ্রাসের ও বৃদ্ধির সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।
যুক্তিবিদ্যায় পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কার্যকর থাকে, যা হলো—ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে, ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে; আবার জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে, জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে। তবে এই নিয়ম কেবল আসন্নতম জাতি ও উপজাতির পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
উদ্দীপকে মাসুম সাহেব উল্লেখ করেছেন যে, আগে দেশে জনসংখ্যা কম ছিল কিন্তু ভালো ও সৎ গুণসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল; বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সৎ মানুষের অনুপাত কমে গেছে। এখানে তিনি পরিমাণ (সংখ্যা) এবং গুণগত পরিবর্তনের পারস্পরিক সম্পর্ক দেখাতে চেয়েছেন, যা যুক্তিবিদ্যার ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তবে যুক্তিবিদ্যার কঠোর নিয়মানুযায়ী, এই হ্রাস-বৃদ্ধি বাস্তব কোনো পরিবর্তন নয়, বরং যৌক্তিক ধারণাগত রূপ। যখন কোনো পদে গুণের সংযোজন ঘটে (জাত্যর্থ বাড়ে), তখন তার পরিধি বা প্রযোজ্য বস্তুর সংখ্যা কমে যায় (ব্যক্ত্যর্থ কমে)। যেমন: 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থের সাথে যদি 'সৎ' গুণটি যোগ করা হয়, তবে 'সৎ মানুষ'-এর ব্যক্ত্যর্থ মূল মানুষ পদের চেয়ে হ্রাস পায়।
অতএব, মাসুম সাহেবের আলোচনাটি পাঠ্যবইয়ের পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মের বাস্তব দৃষ্টান্তের অনুরূপ ধারণা প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও