হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
পার্থ বাবু একজন ধার্মিক ব্যক্তি। কোনো সমস্যায় পড়লেই তিনি হিন্দুধর্মের প্রাচীন গ্রন্থের জ্ঞানের আলোকে সমাধান করার চেষ্টা করেন। তাতেও সমাধান না পেলে পর্যায়ক্রমে স্মৃতিশাস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয় অনুসরণ করেন। অন্যদিকে হৃদয় বাবু বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থখানা অধ্যয়ন করেন। এছাড়াও তিনি এই গ্রন্থ থেকে ভারতবর্ষের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম-কর্মসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন।
- ক)(1)
ধর্ম কাকে বলে?
- খ)(2)
হিন্দুধর্মকে বৈদিক ধর্ম বলা হয় কেন?
- গ)(3)
হৃদয় বাবু কোন ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পার্থ বাবুর মধ্যে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ কাজ করছে'- মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যা ধারণ করে মানুষ সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পবিত্র জীবনযাপন করতে পারে, তাকে ধর্ম বলে। অন্যভাবে, যা থেকে জাগতিক কল্যাণ ও পারমার্থিক মঙ্গল লাভ হয়, তাই ধর্ম।
- খ)
বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ এবং হিন্দুধর্মের মূল ভিত্তি। বেদকে আশ্রয় করেই হিন্দুধর্মের বিকাশ ঘটেছে।
বেদের ধর্মচিন্তা, যজ্ঞ, প্রার্থনা, ব্রহ্মতত্ত্ব ও নৈতিক আদর্শ হিন্দুধর্মের মূল কাঠামো তৈরি করেছে। পরবর্তী ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় আচারও বেদভিত্তিক।
তাই হিন্দুধর্মকে বৈদিক ধর্ম বলা হয়। - গ)
হৃদয় বাবু বেদ অধ্যয়ন করেন।
বেদের পরিচয়: বেদ হিন্দুদের আদি ও সবচেয়ে প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ। এর চারটি ভাগ: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। বিষয়ের দিক থেকে এর সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ, এই চার অংশ আছে। বেদ একটি বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার এবং এক অখণ্ড জ্ঞানরাশি।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: উদ্দীপকে হৃদয় বাবু বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থখানা পড়েন এবং তা থেকে ভারতবর্ষের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম-কর্মসহ নানা বিষয় জানতে পারেন। পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানতে বেদই একমাত্র নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। ভারতবর্ষের শিক্ষা-সংস্কৃতি, ধর্ম-কর্ম ও আচার-নিষ্ঠা সবই বেদের মধ্য দিয়ে প্রতিভাত হয়েছে।
তাই হৃদয় বাবুর অধ্যয়ন করা গ্রন্থটি বেদ। - ঘ)
পার্থ বাবুর মধ্যে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ কাজ করছে, মন্তব্যটি যথার্থ।
ধর্মের বিশেষ লক্ষণ: মনুসংহিতা অনুসারে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ চারটি, বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী: 'বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ। এতচ্চতুর্বিধং প্রাহুঃ সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্॥' (মনুসংহিতা ২/১২)। জীবনের সমস্যায় প্রথমে বেদে বিশ্বাস রাখতে হয়। এতে সমাধান না হলে স্মৃতিশাস্ত্রের অনুশাসন মানতে হয়। তাতেও না হলে মহাপুরুষদের আচরিত সদাচার থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এর পরেও সমাধান না হলে নিজের বিবেক ও অভিজ্ঞতালব্ধ কর্তব্য-অকর্তব্যের জ্ঞান কাজে লাগাতে হয়।
১. বেদ: পার্থ বাবু কোনো সমস্যায় পড়লে প্রথমে হিন্দুধর্মের প্রাচীন গ্রন্থ অর্থাৎ বেদের জ্ঞানের আলোকে সমাধান খোঁজেন। এটি ধর্মের প্রথম লক্ষণ বেদের অনুসরণ।
২. স্মৃতি: সমাধান না পেলে তিনি স্মৃতিশাস্ত্র অনুসরণ করেন। এটি দ্বিতীয় লক্ষণ।
৩. পর্যায়ক্রম ও সদাচার-বিবেক: উদ্দীপকে বলা হয়েছে 'স্মৃতিশাস্ত্রসহ অন্যান্য বিষয়' পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করেন। এই 'অন্যান্য' বলতে সদাচার ও বিবেকের বাণী বোঝায়। ফলে ধর্মের চারটি লক্ষণই তাঁর আচরণে ক্রমানুসারে প্রতিফলিত হয়েছে।
৪. ধার্মিকের স্বরূপ: পাঠ্যপুস্তক অনুসারে ধার্মিক ব্যক্তি বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের আহ্বানকে প্রামাণ্য বলে মনে করেন। পার্থ বাবুও তা-ই করেন।
সুতরাং, পার্থ বাবু ধর্মের চারটি বিশেষ লক্ষণই ক্রমানুসারে অনুসরণ করেন। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও