পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. 'P' একটি দেশের একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মি. 'P'- এর দল নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। কিন্তু শাসক গোষ্ঠী নির্বাচনে জয় লাভ কারী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে দলটির প্রিয় নেতা একটি ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হতে বলেন।
- ক)(1)
কত সালে বাংলা দাপ্তরিকভাবে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি পায়?
- খ)(2)
মুজিবনগর সরকার কেন গঠন করা হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচনের সাথে তোমার পঠিত যে নির্বাচনে সাদৃশ্য রয়েছে তার ফলাফল বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের ফলাফল দেশটির স্বাধীনতাকে তরান্বিত করেছিল? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে সাংবিধানিক ও দাপ্তরিকভাবে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সঠিক পথে পরিচালনা, বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি ও সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বৈধ সরকার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে আমার পঠিত পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে বিপুল বিজয় অর্জন করে। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬২টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে (সংরক্ষিত ৭টি নারী আসনসহ মোট ১৬৭ আসন)। প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে। পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পায় ৮১টি আসন। এই ফলাফল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত বৈধতা নিশ্চিত করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ৬ দফার পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দেয়। আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় বৈধভাবেই সরকার গঠনের অধিকার অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র শুরু করে। ৩ মার্চের নির্ধারিত জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত করায় পূর্ব বাংলায় তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণে জনগণকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। পাকিস্তানি জান্তা যখন ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালায়, তখন বাঙালিরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ম্যান্ডেটকে শক্তিতে পরিণত করে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফলই মূলত বাঙালিদের রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সরাসরি ত্বরান্বিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও