পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনের জনগণ তাদের পছন্দের দলকে ভোট দিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়যুক্ত করে। কিন্তু রাষ্ট্রপতিসহ প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী ফলাফল না মেনে চক্রান্তে লিপ্ত হন।
- ক)(1)
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কে ছিলেন?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো নির্বাচনের সাদৃশ্য আছে কী? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচন স্বাধীনতা লাভের প্রেরণা যোগায়- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান গণপরিষদের একজন সদস্য এবং রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে সর্বপ্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা মামলা (যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য') হলো ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও রাজনৈতিক মামলা। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতের সহযোগিতায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার মিথ্যা দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে আইয়ুব খানের সামরিক সরকার এ মামলা দায়ের করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির দীর্ঘ ২৩ বছর পর ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর দেশে প্রথম প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬০টি সাধারণ আসন এবং সংরক্ষিত ৭টি নারী আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, 'X' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনগণ একটি দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জয়যুক্ত করলেও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী ফলাফল না মেনে চক্রান্তে লিপ্ত হয়। এ ঘটনাটি হুবহু ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং নির্বাচন-উত্তর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের প্রতিচ্ছবি। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাঙালিদের চূড়ান্ত স্বাধীনতা লাভের প্রধান প্রেরণা ও ভিত্তি রচনা করেছিল— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয় বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে যে বাঙালি জাতি স্বাধিকার ও মুক্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। এ বিজয়ের ফলে বাঙালিদের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবি আইনগত ও গণতান্ত্রিক বৈধতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ও ভুট্টোর ষড়যন্ত্রের কারণে যখন নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়, তখন পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
এই নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তীকালে শাসকগোষ্ঠীর বিশ্বাসঘাতকতা বাঙালিদের মনে এ উপলব্ধি দৃঢ় করে যে নিয়মতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক পথে পাকিস্তানি কাঠামোর মধ্যে থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর বাঙালি জাতি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অতএব, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন কেবল একটি নির্বাচন ছিল না, বরং তা বাঙালিদের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদের মনে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও