ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. ওয়াসী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক। প্রতিষ্ঠানের মালিক লক্ষ করলেন, মি. ওয়াসী প্রায়ই দেরিতে কর্মস্থলে আসেন এবং কাজে অমনোযোগী। তিনি একদিন মি. ওয়াসীকে ডেকে কথা বলেন এবং কাজে উদ্দীপ্ত করার জন্য তার পদের নাম পরিবর্তন করে হিসাব নির্বাহী করে দেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মি. ওয়াসীর কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয় না। এতে মালিক তাকে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে দেখা গেল মি. ওয়াসী ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন।
- ক)(1)
প্রেষণা কাকে বলে?
- খ)(2)
আত্মতৃপ্তির চাহিদা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মি. ওয়াসীকে প্রথম পর্যায়ে কোন ধরনের প্রেষণা দেওয়া হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কর্মক্ষেত্রে মি. ওয়াসীর ইতিবাচক পরিবর্তন হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্বের যে উপাদান ভূমিকা রেখেছে, তা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কার্যাবলি দক্ষতার সাথে সম্পাদনে উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত ও প্রণোদিত করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের ব্যক্তিগত প্রতিভা ও সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে নিজের মনের তৃপ্তি অর্জনের চরম আকাক্সক্ষাকে আত্মতৃপ্তির চাহিদা বলে।
এটি আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের সর্বোচ্চ স্তর। মানুষের অন্যান্য মৌলিক, নিরাপত্তা, সামাজিক ও মর্যাদাগত চাহিদা পূরণ হওয়ার পর ব্যক্তি এমন কিছু সৃষ্টি বা অর্জন করতে চায় যা তাকে চিরস্মরণীয় বা অন্তরের দিক থেকে পূর্ণ পরিতৃপ্ত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. ওয়াসীকে প্রথম পর্যায়ে অ-আর্থিক প্রেষণা (পদমর্যাদা বৃদ্ধি) দেওয়া হয়।
অর্থ ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা, পদমর্যাদা, সম্মান বা প্রশংসার মাধ্যমে কর্মীদের কাজে উৎসাহিত করার কৌশলকে অ-আর্থিক প্রেষণা বলা হয়। পদবির পরিবর্তন বা পদোন্নতি কর্মীদের আত্মমর্যাদাবোধ বাড়ায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. ওয়াসী কাজে অমনোযোগী ও দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিক তাঁকে উদ্দীপ্ত করার জন্য তাঁর পদের নাম 'হিসাবরক্ষক' থেকে পরিবর্তন করে 'হিসাব নির্বাহী' করে দেন। এখানে কোনো আর্থিক সুযোগ-সুবিধা না বাড়িয়ে কেবল সম্মানজনক পদবি প্রদান করা হয়েছিল, যা মূলত অ-আর্থিক প্রেষণার অন্তর্গত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্মক্ষেত্রে মি. ওয়াসীর ইতিবাচক পরিবর্তনে ফ্রেডরিক হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্বের 'রক্ষণাবেক্ষণ উপাদান' বা 'হাইজিন ফ্যাক্টর' (Hygiene factor) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্ব অনুযায়ী উপাদানসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: প্রেষণামূলক উপাদান এবং রক্ষণাবেক্ষণ/স্বাস্থ্যকর উপাদান। রক্ষণাবেক্ষণ উপাদানগুলোর মধ্যে কর্মপরিবেশ, কাজের ভৌত সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা, বেতন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এ উপাদানগুলো অনুপস্থিত থাকলে কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, তবে এগুলোর উপস্থিতি কর্মীদের কর্মক্ষম রাখতে ও অসন্তোষ দূর করতে অপরিহার্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. ওয়াসীকে প্রথমে পদমর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রেষণামূলক উপাদান দেওয়া হলেও তা তাঁর অসন্তোষ দূর করতে পারেনি এবং তিনি কাজে উদাসীন ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মালিক যখন তাঁর কাজের শারীরিক পরিবেশ উন্নত করে একটি 'শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে' বসার ব্যবস্থা করে দিলেন, তখন তিনি কাজের অনুকূল পরিবেশ পেয়ে সন্তুষ্ট হন এবং দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে শুরু করেন। হার্জবার্গের তত্ত্ব অনুযায়ী, ভালো কর্মপরিবেশ ও ভৌত সুবিধা হলো রক্ষণাবেক্ষণমূলক উপাদান, যা কর্মীদের অসন্তোষ দূর করে কাজে মনোযোগী করে তোলে।
সুতরাং, কর্মক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ব্যবস্থা অর্থাৎ কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ প্রদানেরূপ রক্ষণাবেক্ষণ উপাদানই মি. ওয়াসীর অসন্তোষ দূর করে তাঁর কাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও