ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

নুসরাত, আমিনা ও রীমা নামে তিন বান্ধবী ২০২০ সালের শুরুতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে 'গুডফুড' নামে অনলাইন ভিত্তিক একটি খাবার রেস্তোরা চালু করেন । রীমা কোনো মূলধন সরবরাহ করেননি। তবে তিনি ব্যবসায়ের কার্যাবলি সম্পাদন করেন। ২০২১ সালে মুনাফা বণ্টন নিয়ে রীমার সাথে অপর দুই বান্ধবীর মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর রীমা এই সংগঠনে আর থাকবে না বলে লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়।

  1. ক)

    চুক্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    চুক্তিপত্রের বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বর্ণিত ব্যবসায়ে রীমা কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রীমার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে 'গুডফুড' রেস্তোরাকে টিকিয়ে রাখার জন্য করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য বা আইনগত বাধ্যবাধকতাপূর্ণ সম্মতি বা সমঝোতাকে চুক্তি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চুক্তিপত্রের বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অংশীদারদের মধ্যকার অধিকার, দায়িত্ব, মুনাফা বণ্টন ও ভবিষ্যতে বিরোধ নিষ্পত্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

    অংশীদারি ব্যবসায় চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত ও পরিচালিত হয়। চুক্তিপত্রে অংশীদারদের মূলধনের পরিমাণ, লাভ-ক্ষতি বণ্টনের অনুপাত, ব্যবসায় পরিচালনার নিয়মাবলি এবং বিলোপসাধন সংক্রান্ত শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। এর ফলে অংশীদারদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধ সৃষ্টি হলে চুক্তিপত্রের শর্তাবলি পর্যালোচনা করে সহজেই সমাধান করা সম্ভব হয় এবং কোনো আইনগত জটিলতা দেখা দিলে তা প্রামাণ্য দলিল হিসেবে আদালতে ব্যবহার করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবসায়ে রীমা একজন 'কর্মী অংশীদার' (Working Partner)।

    যে অংশীদার ব্যবসায় কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেন না, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তার দক্ষতা ও শ্রম দিয়ে ব্যবসায়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, তাকে কর্মী অংশীদার বলা হয়। সাধারণ নিয়মে এ ধরনের অংশীদাররা তাদের শ্রম ও সেবার বিনিময়ে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট বেতন বা লভ্যাংশের অংশ পেয়ে থাকেন এবং সাধারণ অংশীদারের মতোই তাদের দায় অসীম হয়।

    উদ্দীপকে নুসরাত, আমিনা ও রীমা 'গুডফুড' নামের একটি খাবার রেস্তোরাঁ শুরু করেন। রীমা এতে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেননি, কিন্তু তিনি প্রতিষ্ঠানের সমুদয় কার্যাবলি নিজে সম্পাদন করতেন। মূলধন না দিয়ে কেবল পরিচালনায় শ্রম ও সময় বিনিয়োগ করার বৈশিষ্ট্যের কারণে রীমা স্পষ্টতই একজন কর্মী অংশীদার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রীমার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে 'গুডফুড' রেস্তোরাঁকে টিকিয়ে রাখার জন্য অপর দুই অংশীদার নুসরাত ও আমিনার উচিত পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নতুন চুক্তি সম্পাদন করে ব্যবসায়টির পুনর্গঠন করা।

    অংশীদারি আইনের নিয়মানুসারে, কোনো অংশীদারের প্রস্থান বা অবসরের ফলে বিদ্যমান অংশীদারি চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। বিশেষ করে ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোনো অংশীদার লিখিত নোটিশ দিয়ে পদত্যাগ করলে বা ব্যবসায় অবসান চাইলে ব্যবসায় বিলুপ্ত হতে পারে। তবে বাকি অংশীদাররা চাইলে পারস্পরিক সম্মতিতে মূল ব্যবসায়ের পরিসমাপ্তি না ঘটিয়ে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসা চালু রাখতে পারেন।

    উদ্দীপকের 'গুডফুড' রেস্তোরাঁকে টিকিয়ে রাখতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
    ১. রীমার সাথে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা: রীমা মূলত মুনাফা বণ্টন নিয়ে মতবিরোধ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি যেহেতু মূল চালিকাশক্তি ছিলেন, তাই তার সাথে আলোচনা করে নতুন শর্তে মুনাফা ও পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে তাকে বহাল রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।
    ২. রীমার হিসাব নিষ্পত্তি ও নতুন চুক্তি সম্পাদন: রীমা যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করেন, তবে তার পাওনাদি (যদি থাকে) আইনানুযায়ী নিষ্পত্তি করে তাকে ব্যবসায় থেকে অবসর দিতে হবে।
    ৩. নতুন চুক্তির মাধ্যমে নুসরাত ও আমিনা কর্তৃক ব্যবসায় পরিচালনা: নুসরাত ও আমিনা নিজেরা একটি নতুন চুক্তিপত্র তৈরি করবেন এবং রীমার সম্পাদিত দায়িত্বসমূহ পালনের জন্য নিজেদের দায়িত্ব বণ্টন করে নেবেন অথবা যোগ্য বেতনভুক্ত ব্যবস্থাপক/কর্মী নিয়োগ করবেন।

    অতএব, রীমা চলে গেলেও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন ও কর্মপদ্ধতি পুনর্বিন্যাস করে নুসরাত ও আমিনা 'গুডফুড' প্রতিষ্ঠানটিকে সফলভাবে টিকিয়ে রাখতে পারবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন