মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: রিপন মেলায় গিয়ে বড় বড় বাতি, উচ্চস্বরে গান এবং নতুন খেলনা দেখে আকৃষ্ট হলো। দৃশ্যকল্প-২: নৈকট্য, চাহিদা, সাদৃশ্য ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা প্রত্যক্ষণের সুবিন্যস্তকরণ করে থাকি ।
- ক)(1)
সংবেদন কী?
- খ)(2)
চাহিদা প্রত্যক্ষণের ব্যক্তিনিষ্ঠ শর্ত কেন?
- গ)(3)
রিপনের মেলায় মনোযোগের যে ধরনের শর্তের প্রকাশ পেয়েছে তার আরও তিনটা শর্তের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রত্যক্ষণের সুবিন্যস্তকরণে এ জাতীয় আর কোন কোন উপাদান রয়েছে? সেগুলোর বর্ণনা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উদ্দীপক যখন গ্রাহকযন্ত্র বা ইন্দ্রিয়কে উত্তেজিত করে এবং সেই উত্তেজনা স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তখন যে প্রাথমিক ও অর্থহীন চেতনার সৃষ্টি হয় তাকে সংবেদন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, প্রয়োজন বা অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে, সেগুলোকে ব্যক্তিনিষ্ঠ শর্ত বলে। মানুষের চাহিদা কোনো বাহ্যিক বস্তু নয়, বরং এটি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ অভাববোধ ও মানসিক তাগিদ থেকে সৃষ্টি হয়। ব্যক্তি তার নিজের জৈবিক বা সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশের উদ্দীপকগুলোকে বেছে নিয়ে প্রত্যক্ষ করে। যেমন—ক্ষুধার্ত ব্যক্তির দৃষ্টি খাবারের দিকেই বেশি আকৃষ্ট হয়। ব্যক্তির নিজস্ব এই অভ্যন্তরীণ ভূমিকার কারণেই চাহিদাকে প্রত্যক্ষণের ব্যক্তিনিষ্ঠ শর্ত বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ রিপন মেলায় গিয়ে বড় বড় বাতি (আকার), উচ্চস্বরে গান (তীব্রতা) এবং নতুন খেলনা (নতুনত্ব) দেখে আকৃষ্ট হয়েছে। এগুলো মনোযোগের 'বস্তুগত শর্ত' (Objective factors)।
মনোযোগের বস্তুগত বা উদ্দীপকগত আরও তিনটি শর্ত নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. উদ্দীপকের পুনরাবৃত্তি (Repetition): কোনো উদ্দীপক যদি বারবার উপস্থিত হয়, তবে তা সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করে। যেমন—বারবার ঘড়ির ঘণ্টার শব্দ বা বিজ্ঞাপনের পুনঃপ্রচার মনোযোগ কেড়ে নেয়।
২. বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য (Contrast): আশেপাশের স্বাভাবিক উদ্দীপক থেকে হঠাৎ কোনো বিপরীতধর্মী বা ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উদ্দীপক আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যেমন—সব সাদা জামা পরা লোকের মাঝে একজন লাল জামা পরা ব্যক্তি সহজে চোখে পড়ে।
৩. গতিশীলতা (Movement): স্থির বস্তুর তুলনায় গতিশীল বস্তু মনোযোগকে দ্রুত আকর্ষণ করে। যেমন—আকাশে স্থির তারার চেয়ে ছুটে চলা উল্কা বা চলমান যান সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ নৈকট্য, সাদৃশ্য ইত্যাদি প্রত্যক্ষণের সুবিন্যস্তকরণের (Perceptual organization) নীতি বা গেস্টাল্ট নীতির প্রতি ইঙ্গিত করে। প্রত্যক্ষণের সুবিন্যস্তকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা নীতি রয়েছে। নিচে সেগুলোর বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. পূর্ণাঙ্গতাকরণ বা পরিপূরণ (Closure): কোনো উদ্দীপক অসম্পূর্ণ বা খণ্ডিত থাকলে আমাদের প্রত্যক্ষণপ্রক্রিয়া ফাঁকা অংশগুলো পূরণ করে সেটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থপূর্ণ রূপ হিসেবে দেখতে চায়। যেমন—একটি বৃত্তের কিছুটা অংশ কাটা থাকলেও আমরা তাকে অসম্পূর্ণ বৃত্ত হিসেবে না দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ গোলক হিসেবেই প্রত্যক্ষণ করি।
২. ধারাবাহিকতা বা নিরবচ্ছিন্নতা (Good Continuation): উদ্দীপকগুলোর মধ্য দিয়ে যদি কোনো মসৃণ বা অবিচ্ছিন্ন রেখা বা ধারা বজায় থাকে, তবে আমরা সেগুলোকে একটি সাধারণ ধারায় সুবিন্যস্ত করে প্রত্যক্ষ করি। খণ্ডিত রেখার বদলে সোজা বা মসৃণ বক্ররেখাকে একক উপাদান হিসেবে দেখা এর উদাহরণ।
৩. অভিন্ন গতি বা সাধারণ ভাগ্য (Common Fate): যেসব উদ্দীপক একই সময়ে একই দিকে বা একই গতিতে গতিশীল থাকে, সেগুলোকে আমরা একটি দল বা সামগ্রিক রূপ হিসেবে প্রত্যক্ষ করি। যেমন—আকাশে ঝাঁক বেঁধে একমুখী উড়ন্ত পাখিদের একটি দল হিসেবে প্রত্যক্ষণ করা হয়।
৪. সমপ্রকৃতি বা প্রতিসাম্যতা (Symmetry): উদ্দীপকগুলো যদি সুষম বা প্রতিসমভাবে সাজানো থাকে, তবে মন সেগুলোকে একত্রে সুবিন্যস্ত করে একটি অর্থপূর্ণ আকৃতি হিসেবে দেখে।
অতএব, নৈকট্য ও সাদৃশ্যের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গতাকরণ, ধারাবাহিকতা, অভিন্ন গতি ইত্যাদি উপাদানও আমাদের প্রত্যক্ষণকে সুবিন্যস্ত করতে মৌলিক ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও