অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী ভোজ্য তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরূপ দামস্তর বৃদ্ধির ফলে নির্দিষ্ট আয় ও নিম্ন আয়ের লোকজন তাদের ক্রয় ক্ষমতা হারাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দেশটি দুটি হাতিয়ার ব্যবহার করে।
- ক)(1)
ভোক্তার মূল্য সূচক কি?
- খ)(2)
মুদ্রাস্ফীতির সময় ঋণগ্রহীতা লাভবান হয় - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিষয়টির কারণ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সৃষ্ট অবস্থা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তার মূল্য সূচক (Consumer Price Index বা CPI) হলো নির্দিষ্ট একটি ভিত্তি বছরের তুলনায় কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একজন সাধারণ বা নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোক্তার জীবনযাত্রার ব্যয় বা নির্বাচিত ভোগ্যপণ্য ও সেবার দামের স্তরের শতকরা পরিবর্তনের পরিমাপক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির সময় অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। ঋণগ্রহীতা যখন ঋণ গ্রহণ করে, তখন অর্থের যে ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্যমান ছিল, মুদ্রাস্ফীতির ফলে ঋণ পরিশোধের সময় অর্থের প্রকৃত মূল্যমান বা ক্রয়ক্ষমতা তার চেয়ে কমে যায়। ফলে ঋণগ্রহীতাকে আগের সমপরিমাণ কাগজি টাকা ফেরত দিতে হলেও বাস্তব অর্থে কম মূল্যের বা কম ক্রয়ক্ষমতার অর্থ ফেরত দিতে হয়। অন্যদিকে ঋণদাতা বাস্তব অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই মুদ্রাস্ফীতির সময় ঋণগ্রহীতা লাভবান হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধির ঘটনাটি দ্বারা মূলত 'মুদ্রাস্ফীতি' (Inflation), বিশেষ করে 'খরচ-বৃদ্ধিজনিত ও আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি' নির্দেশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে এই মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টির প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. জোগান হ্রাস বা জোগান সংকট: রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্ববাজারে গম, সূর্যমুখী তেল, সার ও জ্বালানি তেলের প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। যুদ্ধের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং বিশ্ববাজারে সামগ্রিক জোগান হ্রাস পায়।
২. উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি: কাঁচামাল এবং জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ ও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়, যা খরচ-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-push inflation) সৃষ্টি করে।
৩. আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি: আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে বিশ্ববাজার থেকে চড়া মূল্যে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্য আমদানি করার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অতএব, আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জোগানের ঘাটতি এবং আমদানি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিয়ই এই মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি (Contractionary Monetary Policy) গ্রহণ করে থাকে। অর্থের জোগান হ্রাস করে এবং ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে দামস্তর স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত প্রধান পদক্ষেপসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি (Bank Rate): কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে যে সুদে ঋণ দেয় তাকে ব্যাংক হার বলে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, যার কারণে জনগণ ও ব্যবসায়ীরা ঋণ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হয় এবং বাজারে অর্থের জোগান কমে।
২. খোলাবাজার কার্যক্রম (Open Market Operations): কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি ঋণপত্র, বন্ড ইত্যাদি বিক্রি করে। এতে সাধারণ জনগণ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চলে আসে এবং মুদ্রা সরবরাহ হ্রাস পায়।
৩. জমার অনুপাত বৃদ্ধি (CRR ও SLR বৃদ্ধি): বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ ও তরল আকারে বাধ্যতামূলক জমা রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জমার এই বিধিবদ্ধ অনুপাত বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত হয়।
৪. ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সীমা নির্ধারণ (Selective Credit Control): অনুৎপাদনশীল বা ভোগ্যপণ্যের জন্য ঋণ প্রদান সীমিত বা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং প্রান্তিক জমার হার বৃদ্ধি করা হয়।পরিশেষে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির এসব হাতিয়ার ব্যবহার করে বাজারে মুদ্রা ও ঋণের জোগান কমিয়ে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে দামস্তর নিয়ন্ত্রণে সফল ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও