বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আমরা বন্দী থাকব না পকেটে পকেটে, আমরা বেরিয়ে পড়ব, আমরা ছড়িয়ে পড়ব শহর, গঞ্জে, গ্রামে দিগন্ত থেকে দিগন্তে। আমরা বার বার জ্বলি, নিতান্ত অবহেলায় তা তো তোমরা জানোই কিন্তু তোমরা তো জানো না: কবে আমরা জ্বল উঠব- সবাই শেষবারের মতো।

  1. ক)

    'নিদাঘ' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    কবি নিজেকে 'পরশুরীমের কুঠার' বলেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য বিচার কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের বক্তব্যে 'বিদ্রোহী' কবিতার দ্রোহই প্রকাশিত হয়েছে।"-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'নিদাঘ' শব্দের অর্থ গ্রীষ্ম বা তীব্র উত্তাপ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অন্যায় ও পাপাচারী শক্তির মূলোৎপাটন করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংকল্প বোঝাতে কবি নিজেকে 'পরশুরামের কঠোর কুঠার' বলেছেন।

    পৌরাণিক চরিত্র পরশুরাম যেমন অত্যাচারী ও অহংকারী ক্ষত্রিয়দের সংহার করে পৃথিবীকে পাপমুক্ত করেছিলেন, তেমনি কবিও পরাধীন ভারতের সব অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়ক অপশক্তিকে সমূলে ধ্বংস করতে পরশুরামের সেই কুঠারের মতো কঠোর রূপ ধারণ করতে চেয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতার শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে জেগে ওঠার সম্মিলিত দ্রোহ ও জাগরণের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে শোষিত, অবহেলিত সাধারণ মানুষকে একটি দেশলাই কাঠির সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা পকেটে পকেটে বন্দি না থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে শেষবারের মতো জ্বলে উঠতে প্রস্তুত। এটি শোষিত জনতার তীব্র ক্ষোভ ও বিপ্লবের প্রকাশ।

    'বিদ্রোহী' কবিতাতেও কবি আত্মজাগরণের মাধ্যমে ব্রিটিশ উপনিবেশ ও সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। তিনি উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল থামানোর শপথ নিয়েছেন এবং অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্ত না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। উদ্দীপকের ছড়িয়ে পড়া ও শেষবারের মতো জ্বলে ওঠার যে অদম্য বিপ্লবী সুর, তা 'বিদ্রোহী' কবিতার শৃঙ্খলভাঙার ও বিদ্রোহের চেতনার সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের বক্তব্যে 'বিদ্রোহী' কবিতার দ্রোহই প্রকাশিত হয়েছে।"—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    'বিদ্রোহী' কবিতা বাংলা সাহিত্যের এক অমর সৃষ্টি, যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম সমাজের সমস্ত অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজের বলিষ্ঠ দ্রোহ প্রকাশ করেছেন। কবির বিদ্রোহ ছিল সমাজের জরাজীর্ণতা ভেঙে নতুনের কেতন ওড়ানো এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে চরম আঘাত হানা। তিনি ঘোষণা করেছেন, উৎপীড়িত মানুষের কান্না না থামা পর্যন্ত তাঁর এই বিদ্রোহের আগুন নিভবে না।

    উদ্দীপকের চরনগুলোতেও অবদমিত জনতার ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে। তুচ্ছ দেশলাই কাঠির মতো অবহেলিত সাধারণ মানুষ যখন তাদের শক্তির পরিচয় দেবে এবং শহর-গ্রাম ছাপিয়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে, তখন সব শোষকের ধ্বংস অনিবার্য। এই যে আপসহীন প্রতিবাদ, নিপীড়কের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠার সংকল্প এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানার মানসিকতা—তা সম্পূর্ণভাবে নজরুলের দ্রোহচেতনারই প্রতিফলন।

    অতএব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং শোষিতের পক্ষ হয়ে চূড়ান্ত বিপ্লব ঘটানোর ভাব বিবেচনায় উদ্দীপকের বক্তব্য মূলত 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল দ্রোহের সুরকেই ধারণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন