যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

সোহাগ জাকিরকে বলল, বাংলাদেশে দিন দিন বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বেকারের সংখ্যা কমাতে হলে দেশের শিক্ষার হার বাড়াতে হবে। তখন জাকির সোহাগকে বলল, দেশে যতই শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে ততই বেকারত্ব হ্রাস পাবে।

  1. ক)

    একটি যুক্তিবাক্যের কয়টি অংশ?

    (1)
  2. খ)

    'সকল শব্দ পদ নয়'- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পদের কোন সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে পদের যে দুই ধরনের সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে তা কি একই প্রকৃতির? মন্তব্য দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি যুক্তিবাক্যের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য, বিধেয় এবং সংযোজক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থপূর্ণ এক বা একাধিক বর্ণের সমষ্টিকে শব্দ বলে। অন্যদিকে যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে পদ বলে। ভাষায় ব্যবহৃত সকল শব্দই পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না; যেমন—পদ-অযোগ্য শব্দ (আহা, বাঃ ইত্যাদি) এবং সহ-পদযোগ্য শব্দ (এবং, কিন্তু ইত্যাদি) এককভাবে পদ হতে পারে না। কেবল পদযোগ্য শব্দই পদ হতে পারে। তাই বলা হয়, 'সকল পদই শব্দ, কিন্তু সকল শব্দ পদ নয়'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পদের 'ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী অনুপাত বা বিপরীত পরিবর্তনের সম্পর্ক' প্রতিফলিত হয়েছে।

    যুক্তিবিদ্যায় কোনো পদের দ্বারা নির্দেশিত বস্তুর বা ব্যক্তিবর্গের সংখ্যার পরিমাণকে তার ব্যক্ত্যর্থ বলে এবং পদের আবশ্যিক ও সাধারণ গুণের পরিমাণকে তার জাত্যর্থ বলে। পদের এই ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিপরীতমুখী নিয়ম বিদ্যমান; অর্থাৎ একটি বৃদ্ধি পেলে অন্যটি হ্রাস পায়, এবং একটি হ্রাস পেলে অন্যটি বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে সোহাগ ও জাকিরের আলোচনায় বলা হয়েছে—'বেকারের সংখ্যা কমাতে হলে শিক্ষার হার বাড়াতে হবে' এবং 'শিক্ষার হার যত বাড়বে, বেকারত্ব তত কমবে'। এখানে শিক্ষার হার (গুণ) এবং বেকারত্ব (সংখ্যা) একটির বৃদ্ধিতে অন্যটির হ্রাস পাওয়ার বিপরীতমুখী পরিবর্তনের উদাহরণ দেয়। যুক্তিবিদ্যায় এটি পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত পরিবর্তনের সম্পর্কের অনুরূপ রূপক উপস্থাপন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সোহাগ ও জাকিরের বক্তব্যে প্রতিফলিত দিক দুটি হলো পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের পরিবর্তনের বিপরীতমুখী দুটি দিক—যা মূল প্রকৃতির দিক থেকে মূলত একই নিয়মের অংশ।

    উদ্দীপকে সোহাগ বলেছে বেকারের সংখ্যা কমাতে শিক্ষার হার বাড়াতে হবে (অর্থাৎ গুণ বৃদ্ধি করে সংখ্যা কমানো), অন্যদিকে জাকির বলেছে শিক্ষার হার যতই বাড়বে বেকারত্ব ততই হ্রাস পাবে (একই বিপরীতমুখী সম্পর্ককে আরও নিশ্চিত করে বলা)। যুক্তিবিদ্যার ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়মটি মূলত চারটি ভাগে দেখা যায়:
    ১. ব্যক্ত্যর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে,
    ২. ব্যক্ত্যর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে,
    ৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্ত্যর্থ কমে,
    ৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্ত্যর্থ বাড়ে।

    উদ্দীপকে সোহাগের বক্তব্যে গুণ বৃদ্ধি পেলে সংখ্যা হ্রাস পাওয়া এবং জাকিরের বক্তব্যেও অনুরূপভাবে শিক্ষার বিস্তার (জাত্যর্থ) ঘটলে বেকারত্বের পরিমাণ (ব্যক্ত্যর্থ) কমে যাওয়ার চিত্র বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সোহাগ ও জাকির মূলত একই বিপরীতমুখী সম্পর্কের সূত্রটিকে তুলে ধরেছে।

    অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত দিক দুটি আলাদা সম্পর্কের প্রতিফলন নয়, বরং পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির অভিন্ন বিপরীতমুখী নিয়মেরই প্রকাশ। তাই বলা যায়, এ দুটি একই প্রকৃতির।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন