যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আরোহ কী?

    (1)
  2. খ)

    অপ্রকৃত আরোহ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে B ও C দিয়ে কী নির্দেশ করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে D ও G দিয়ে যে আরোহকে নির্দেশ করা হয়েছে তাদের আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াকে আরোহ বা আরোহ অনুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' (জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে বা বিশেষ থেকে সার্বিকে উত্তরণ) অনুপস্থিত থাকে, তাকে অপ্রকৃত আরোহ বলে। যুক্তিবিদ মিল আরোহের মূল লক্ষণ বা প্রাণ হিসেবে আরোহমূলক লম্ফকে উল্লেখ করেছেন। অপ্রকৃত আরোহের ক্ষেত্রে কোনো নতুন সত্য আবিষ্কার হয় না এবং জানা সত্য থেকে অজানা সত্যে যাওয়া হয় না, তবে আপাতদৃষ্টিতে এটিকে আরোহ অনুমানের মতো মনে হয়। পূর্ণাঙ্গ আরোহ, যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ এবং ঘটনা সংযোজন হলো অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল প্রদত্ত আরোহের শ্রেণিবিন্যাসকে একটি ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে শীর্ষের 'A' হলো 'আরোহ অনুমান'। এই আরোহ অনুমানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার মধ্যে 'B' দিয়ে নির্দেশ করা হয়েছে 'প্রকৃত আরোহ' এবং 'C' দিয়ে নির্দেশ করা হয়েছে 'অপ্রকৃত আরোহ'।

    যুক্তিবিদ মিলের মতে, যে আরোহ অনুমানে আরোহের মূল লক্ষণ অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' বিদ্যমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ (B) বলে। ছকে দেখা যাচ্ছে, B-কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে: বৈজ্ঞানিক আরোহ (D), অবৈজ্ঞানিক আরোহ (E) এবং সাদৃশ্যানুমান। এই তিনটির প্রতিটিতেই জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে উত্তরণ বা আরোহমূলক লম্ফ বর্তমান থাকে।

    অন্যদিকে, যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে, তাকে অপ্রকৃত আরোহ (C) বলে। ছকে C-এর অধীনে তিনটি ভাগ রয়েছে: পূর্ণাঙ্গ আরোহ (G), যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ এবং ঘটনা সংযোজন (I)। এগুলোতে আরোহের রূপগত মিল থাকলেও আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য লম্ফ থাকে না। অতএব, উদ্দীপকে B হলো প্রকৃত আরোহ এবং C হলো অপ্রকৃত আরোহ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছক অনুযায়ী 'D' দিয়ে 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং 'G' দিয়ে 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ'-কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এদের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক (সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য) বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রকৃতির নিয়ম ও কার্যকারণ নিয়ম: বৈজ্ঞানিক আরোহ (D) প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে (G) কেবল গণনার ওপর নির্ভর করা হয়, এতে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের কোনো অবকাশ থাকে না।

    ২. আরোহমূলক লম্ফ: বৈজ্ঞানিক আরোহ হলো প্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত, তাই এতে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য 'আরোহমূলক লম্ফ' বা জানা থেকে অজানায় উত্তরণ বর্তমান থাকে। অপরদিকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এতে কোনো লম্ফ থাকে না; এখানে সমজাতীয় সব দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ৩. সিদ্ধান্ত ও সংশ্লেষকতা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য, যা সবসময় একটি নতুন তথ্য প্রদান করে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্তটি কেবল পূর্বে পর্যবেক্ষিত দৃষ্টান্তগুলোর সংক্ষিপ্ত সমষ্টি প্রকাশ করে, ফলে এটি কোনো নতুন জ্ঞানের সন্ধান দেয় না।

    ৪. নিশ্চিততা ও সম্ভাবনা: পূর্ণাঙ্গ আরোহের প্রতিটি দৃষ্টান্ত গণনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত। অন্যদিকে, বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করায় বৈজ্ঞানিকভাবে সুনিশ্চিত হলেও তাতে তত্ত্বগত সম্ভাবনার সামান্য অবকাশ থাকতে পারে।

    পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক আরোহ ও পূর্ণাঙ্গ আরোহ উভয়ের উদ্দেশ্য সার্বিক বাক্য গঠন হলেও প্রকৃতিগত দিক থেকে বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি যথার্থ ও পূর্ণাঙ্গ আরোহ প্রক্রিয়া, আর পূর্ণাঙ্গ আরোহ শুধুমাত্র আপাতদৃষ্টিতে আরোহ, মূল বৈশিষ্ট্যে এটি প্রায় অবরোহ অনুমানের সমতুল্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন