ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

উৎপাদন ও বিক্রয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারির প্রেক্ষিতে উৎপাদন বিভাগের ব্যবস্থাপক জনাব আতিক আরও সতর্কতার সাথে প্রত্যেক কর্মীর কাজ সুনির্দিষ্ট করে দিয়ে তাদের জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও করেন। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তার অধীনস্থ চল্লিশ জনের মাঝে পনেরো জনকে নির্দিষ্ট পরিমাণে মোবাইল বিল এর ব্যবস্থা করেন। এর জন্য বাকি ২৫ জনের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নির্বাহীগণ অবগত হলেন এবং তারা ক্ষোভ নিরসণ এর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

  1. ক)

    ব্যবস্থাপনার নীতি কি?

    (1)
  2. খ)

    এফ ডব্লিউ টেইলর কে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে হেনরি ফেয়ল এর কোন নীতি লঙ্ঘনের ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব আতিক একজন প্রশাসক না ব্যবস্থাপক? উত্তরের সাপেক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবস্থাপনার নীতি হলো ব্যবস্থাপনা কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুসৃত মৌলিক সত্য, সাধারণ বা নির্দেশক নিয়মাবলি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    এফ ডব্লিউ টেইলর সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে কাজের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ, বৈজ্ঞানিক উপায়ে কর্মী নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার চারটি মৌলিক নীতি এবং বিভিন্ন কলাকৌশল উদ্ভাবন ও সফল প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রাখেন। এ কারণেই তাকে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে হেনরি ফেয়লের ব্যবস্থাপনার 'ন্যায়পরায়ণতা বা সমতার নীতি' লঙ্ঘনের ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যবস্থাপনার ন্যায়পরায়ণতা নীতি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীর প্রতি সমান আচরণ, পক্ষপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রত্যেকের কাজের মূল্যায়ন ন্যায়সঙ্গতভাবে করতে হয়। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে সন্তুষ্টি ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, উৎপাদন বিভাগের ব্যবস্থাপক জনাব আতিক উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তার অধীনে থাকা ৪০ জন কর্মীর মধ্য থেকে ১৫ জনকে নির্দিষ্ট পরিমাণ মোবাইল বিলের সুবিধা দেন। কিন্তু বাকি ২৫ জনকে কোনো যৌক্তিক কারণ বা সমতা রক্ষা না করেই এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন। এতে কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ প্রকাশ পায়, যা ফেয়লের ন্যায়পরায়ণতা নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই বৈষম্যের কারণেই বঞ্চিত ২৫ জন কর্মীর মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে জনাব আতিক একজন 'ব্যবস্থাপক', প্রশাসক নন। নিচে এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    তাত্ত্বিকভাবে, প্রশাসন হলো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রক্রিয়া, যা লক্ষ্য নির্ধারণ, নীতি নির্ধারণ ও সামগ্রিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অন্যদিকে, ব্যবস্থাপনা বা ব্যবস্থাপক হলেন সেই পক্ষ, যিনি প্রশাসনের নির্ধারিত নীতি ও নির্দেশাবলি বাস্তবায়নে নিয়োজিত থেকে পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

    উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উৎপাদন ও বিক্রয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারির পর জনাব আতিক উৎপাদন বিভাগের দায়িত্বে থেকে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেন। তিনি উৎপাদন বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত কর্মীদের কাজ সুনির্দিষ্ট করেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন এবং কাজ আদায়ের জন্য পুরস্কার বা সুবিধার (মোবাইল বিল) ব্যবস্থা করেন। এখানে তিনি নীতি নির্ধারণ করেননি, বরং ঊর্ধ্বতনদের নীতি ও লক্ষ্য মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন।

    অতএব, প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ কার্য পরিচালনা ও অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণ করায় জনাব আতিককে প্রশাসক না বলে ব্যবস্থাপক হিসেবে চিহ্নিত করাই যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন