অর্থনীতি ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. সিরাজুল এমন একটি ব্যাংকে চাকরি করেন সেই ব্যাংকটি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দামস্তরের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও নিকাশঘর সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে মি. মিজান যে ব্যাংকে চাকরি করেন সেই ব্যাংকটি আমানত গ্রহণ, ঋণ আমানত সৃষ্টি ও মূলধন গঠন সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- ক)(1)
অর্থের চাহিদা কি?
- খ)(2)
মোবাইল ব্যাংকিং ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মি. মিজান ও মি. সিরাজুল কোন ধরনের ব্যাংকে কাজ করেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মি সিরাজুল যে ব্যাংকে কাজ করেন সেই ব্যাংক কি উপায়ে অন্যান্য ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের জনগণ দৈনন্দিন লেনদেন, দূরদর্শী ও ফটকা উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে নগদ আকারে যে পরিমাণ অর্থ ধরে রাখতে চায়, তাকে অর্থের চাহিদা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মোবাইল ব্যাংকিং ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠার মূল কারণ এর সহজলভ্যতা, দ্রুততা ও স্বল্প ব্যয়। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংক শাখায় সশরীরে না গিয়েও যেকোনো স্থান থেকে সার্বক্ষণিক (২৪/৭) অর্থ প্রেরণ, গ্রহণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও কেনাকাটা করতে পারেন। প্রান্তিক ও ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত জনগণের কাছে সহজে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. সিরাজুল কাজ করেন 'কেন্দ্রীয় ব্যাংকে' এবং মি. মিজান কাজ করেন 'বাণিজ্যিক ব্যাংকে'।
ব্যাখ্যা:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের আর্থিক ও ব্যাংকিং কাঠামোর শীর্ষ প্রতিষ্ঠান, যা নোট প্রচলন, ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দামস্তরের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিকাশঘর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। উদ্দীপকে মি. সিরাজুলের ব্যাংকটি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দামস্তরের স্থিতিশীলতা ও নিকাশঘর পরিচালনা করে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌলিক কার্যাবলি।অপরদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনগণের নিকট থেকে আমানত গ্রহণ করে, ঋণ প্রদান করে, ঋণ আমানত সৃষ্টি করে এবং মূলধন গঠনে সহায়তা করে। উদ্দীপকে মি. মিজানের ব্যাংকের আমানত গ্রহণ, ঋণ আমানত সৃষ্টি ও মূলধন গঠনের কার্যক্রম বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্দেশক। অতএব, মি. মিজান বাণিজ্যিক ব্যাংকে কর্মরত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. সিরাজুল যে ব্যাংকে কাজ করেন তা হলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঋণদান নিয়ন্ত্রণ করতে এবং অর্থনীতিতে দামস্তর স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে:
১. ব্যাংক হার নীতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, তাকে ব্যাংক হার বলে। বাজারে ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার বৃদ্ধি করে, ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ঋণের সুদহার বাড়িয়ে দেয় এবং সামগ্রিক ঋণ হ্রাস পায়।
২. খোলা বাজার নীতি: খোলা বাজারে সরকারি ঋণপত্র, বিল বা বন্ড ক্রয়-বিক্রয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। ঋণ সংকুচিত করতে বাজারে সিকিউরিটিজ বিক্রি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের নগদ তহবিল তুলে নেওয়া হয়।
৩. জমার অনুপাত পরিবর্তন: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ জমা রাখতে হয় (CRR ও SLR)। এই জমার অনুপাত বাড়িয়ে দিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা কমে যায়।
৪. ঋণ বরাদ্দের সীমা নির্ধারণ: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বা কোটা নির্ধারণ করে ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
৫. মার্জিন বা জামানতের শর্ত পরিবর্তন: ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পদের মূল্যের মার্জিন বাড়িয়ে বা কমিয়ে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
৬. প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা ও নৈতিক প্ররোচনা: নিয়ম অমান্যকারী ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ ও অনুরোধের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হয়।উপরোক্ত সংখ্যাত্মক ও গুণগত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে মি. সিরাজুলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও