অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আবুল বাশার একজন শিক্ষক। তিনি ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দক্ষ মানব সম্পদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে প্রায় ১৬. কোটি লোক বাস করে। কিন্তু এসব লোক বেশিরভাগই অশিক্ষিত ও নিরক্ষর। এরা সমাজের বোঝা হয়ে থাকছে। তবে এসব লোককে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা সম্পদে পরিণত হবে এবং উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবে।
- ক)(1)
মানবসম্পদ উন্নয়ন বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
জনাব আবুল বাশার মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব কীভাবে ব্যাখ্যা করেন?
- ঘ)(4)
বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো' তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের শ্রমশক্তি বা জনগণকে উৎপাদনশীল, কর্মক্ষম ও দক্ষ সম্পদে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের মোট জনসংখ্যাকে দেশটির মোট কার্যকর ভূমি বা আয়তন দিয়ে ভাগ করলে যে মান পাওয়া যায়, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।
অর্থাৎ, জনসংখ্যার ঘনত্ব = (মোট জনসংখ্যা ÷ মোট আয়তন)। এর মাধ্যমে একটি দেশের নির্দিষ্ট আয়তনের প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে কতজন মানুষ বসবাস করে তা পরিমাপ করা যায় এবং ভূমির ওপর জনসংখ্যার চাপের মাত্রা বোঝা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব আবুল বাশার অদক্ষ ও নিরক্ষর জনসংখ্যাকে সমাজের জন্য বোঝা হিসেবে উল্লেখ করে তাদেরকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো, কেবল জনসংখ্যার সংখ্যাগত দিক গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুণগত মানই মুখ্য। নিরক্ষর ও অদক্ষ মানুষ অর্থনীতিতে কোনো ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে না, বরং তারা বিদ্যমান সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই জনসংখ্যাকে যদি প্রয়োজনীয় শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণে সমৃদ্ধ করা যায়, তবে তারা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়।
দক্ষ মানবসম্পদ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে, প্রাকৃতিক ও ভৌতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়নে গতিশীল ভূমিকা রাখে। জনাব আবুল বাশার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অদক্ষ জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের জন্য সরকার বিভিন্ন সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক।
বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো:
১. সার্বজনীন ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা: বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান এবং মেয়েদের শিক্ষায় আর্থিক প্রণোদনা প্রদান।
২. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার: প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক (ICT) প্রশিক্ষণ জোরদার করা।
৩. স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ: গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা।
৪. যুব উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বেকার যুবকদের বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।মূল্যায়ন: সরকারের এসব কার্যক্রম সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, প্রবাসে দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি এবং গড় আয়ু বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। তবে এখনো শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা, শিল্প ও শিক্ষার মাঝে সমন্বয় সাধন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে কিছু ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রগুলোতে আরও কার্যকরী তদারকি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দ্রুত সমৃদ্ধ মানবসম্পদের দেশে পরিণত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও