ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
রতনপুর বাংলাদেশের একটি অনুন্নত অঞ্চল। স্থানীয় জননেতা রহিম সাহেব এলাকার মানুষের প্রতি বৈষম্য নিরসনকল্পে এক জনসভায় কতিপয় দাবি সংবলিত একটি দাবিনামা পেশ করেন। এ দাবিনামা এলাকায় গণমানুষের মাঝে অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করে।। জনগণ দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়।
- ক)(1)
কত সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
- খ)(2)
আগরতলা মামলা সম্পর্কে কী জান? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহিম সাহেবের দাবিগুলো পাকিস্তানি আমলের কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনা ছিল বাঙালি জাতির ম্যাগনাকার্টা- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে, তা ইতিহাসে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত। এর আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অভিযোগ ছিল, আসামিরা ভারতের সহায়তায় পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র করছিলেন। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালে সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিম সাহেবের দাবিনামা পাকিস্তানি আমলের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি' (১৯৬৬)-কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করে রেখেছিল। এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সম্মেলনে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। উদ্দীপকের রহিম সাহেবও অনগ্রসর অঞ্চলের বৈষম্য নিরসনে যে দাবি পেশ করেছেন এবং যা গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে, তা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালি জাতির 'ম্যাগনাকার্টা' বা মুক্তির সনদ বলা যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ব্যারনদের অধিকার রক্ষায় যেমন 'ম্যাগনাকার্টা' চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তেমনি ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও বৈষম্য থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা উপস্থাপন করেন।
ছয় দফার প্রধান দিকগুলো ছিল—যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন, সার্বভৌম সংসদীয় সরকার, পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা, কর বা শুল্ক ধার্যের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদেশের হাতে রাখা, বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিকার এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষার জন্য প্যারা-মিলিশিয়া বাহিনী গঠন। এটি মূলত বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বাধীনতার ব্লু-প্রিন্ট ছিল।
ছয় দফার ভিত্তিতেই বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়, যা ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় এবং পরিশেষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে সরাসরি ভূমিকা রাখে। তাই নিঃসন্দেহে ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও