জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
শ্বসন কী?
- খ)(2)
হেটেরোমরফিক জনুক্রম বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের B উদ্ভিদগুলোর পাতায় সংঘটিত খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া ছক আকারে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের A ও B গ্রুপের উদ্ভিদের মধ্যে TCA বিজারণের ভিত্তিতে সুষ্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল খাদ্যবস্তু জারিত হয়ে রাসায়নিক স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তি বা এটিপি (ATP) রূপে মুক্ত করে, তাকে শ্বসন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জীবের জীবনচক্রে যদি হ্যাপ্লয়েড (গ্যামিটোফাইটিক) ও ডিপ্লয়েড (স্পোরোফাইটিক) জনু বা দশা দুটির অঙ্গসংস্থানিক রূপ বা আকার-আকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির হয়, তবে সেই ধরনের জনুক্রমকে হেটেরোমরফিক জনুক্রম বলে। উদাহরণস্বরূপ, ফার্ন (Pteridophytes) এবং মস (Bryophytes)-এর জীবনচক্রে স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট পরস্পর রূপগতভাবে সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় তাদের জনুক্রম হেটেরোমরফিক প্রকৃতির।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'B' গ্রুপের উদ্ভিদগুলো (ইক্ষু, ভুট্টা, মুথাঘাস) হলো C4 উদ্ভিদ। এদের পাতায় খাদ্য (শর্করা) তৈরির প্রক্রিয়াটি হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র (C4 চক্র) নামে পরিচিত। নিম্নে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্রের মূল প্রবাহচিত্র ছক আকারে উপস্থাপন করা হলো:
১. মেসোফিল কোষে:
বায়ুমণ্ডলের CO2 + ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড (3C)
↓ [এনজাইম: PEP কার্বক্সিলেজ]
অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (4C)
↓ [বিজারিত হয় NADPH2 দ্বারা]
ম্যালিক অ্যাসিড (4C) / অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড (4C)↓ [প্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে পরিবহন]২. বান্ডল সিথ কোষে:
ম্যালিক অ্যাসিড (4C)
↓ [ডিকার্বক্সিলেশন]
পাইরুভিক অ্যাসিড (3C) + CO2- নির্গত CO2 বান্ডল সিথ কোষে ক্যালভিন চক্রে (C3 চক্র) প্রবেশ করে শর্করা তৈরি করে।
- উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড (3C) পুনরায় মেসোফিল কোষে ফিরে আসে এবং ATP ব্যবহারের মাধ্যমে ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEP)-এ রূপান্তরিত হয়ে চক্রটি চালু রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত A গ্রুপের উদ্ভিদগুলো (ধান, আম, জাম) হলো C3 উদ্ভিদ এবং B গ্রুপের উদ্ভিদগুলো (ইক্ষু, ভুট্টা, মুথাঘাস) হলো C4 উদ্ভিদ। প্রশ্নে উল্লিখিত TCA (ট্রাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড / কার্বন বিজারণ চক্র বা কার্বন আত্তীকরণ) প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে এদের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রথম স্থায়ী যৌগ: C3 উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী যৌগ হলো ৩ কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (3-PGA)। অন্যদিকে, C4 উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী যৌগ হলো ৪ কার্বনবিশিষ্ট ডাইকার্বক্সিলিক/অর্গানিক অ্যাসিড—অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA)।
২. প্রাথমিক CO2 গ্রহীতা: C3 উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক CO2 গ্রহীতা হলো ৫ কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ ১,৫-বিসফসফেট (RuBP)। কিন্তু C4 উদ্ভিদে প্রাথমিক CO2 গ্রহীতা হলো ৩ কার্বনবিশিষ্ট ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEP)।
৩. প্রধান এনজাইম: C3 উদ্ভিদে CO2 সংযোজনে প্রধান এনজাইম হিসেবে কাজ করে রুবিস্কো (RuBisCO)। পক্ষান্তরে, C4 উদ্ভিদে প্রাথমিক CO2 সংযোজন ঘটায় ফসফোএনল পাইরুভেট কার্বক্সিলেজ (PEP carboxylase)।
৪. সংঘটন স্থান ও পাতার গঠন: C3 উদ্ভিদে সমগ্র প্রক্রিয়াটি কেবল মেসোফিল কোষে ঘটে (ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি অনুপস্থিত)। কিন্তু C4 উদ্ভিদে প্রক্রিয়াটি মেসোফিল কোষ এবং বান্ডল সিথ কোষ—উভয় কোষে সম্পন্ন হয় (ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি উপস্থিত)।
৫. আলোক শ্বসন (Photorespiration): C3 উদ্ভিদে উচ্চ আলো ও তাপমাত্রায় তীব্র আলোক শ্বসন ঘটে, যার ফলে সালোকসংশ্লেষণের হার হ্রাস পায়। বিপরীতভাবে, C4 উদ্ভিদে CO2-এর অভ্যন্তরীণ ঘনত্ব সর্বদা বেশি থাকায় আলোক শ্বসন ঘটে না বললেই চলে, ফলে খাদ্য উৎপাদন দক্ষতা অনেক বেশি থাকে।
৬. CO2 সংবেদী বিন্দু (Compensation point): C3 উদ্ভিদের CO2 ক্ষতিপূরণ বিন্দু বেশি (৩০-৭০ ppm), কিন্তু C4 উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এটি অনেক কম (০-১০ ppm)।সুতরাং, কার্বন বিজারণ ও শর্করা তৈরির কৌশল ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে A ও B গ্রুপের উদ্ভিদের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও