ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. আকমল কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। কোম্পানির গঠনের প্রাথমিক ব্যয়ের আলোকে প্রতিষ্ঠান মি. আকমলকে এক ধরনের শেয়ার প্রদান করে যা কখনোই হস্তান্তর যোগ্য না। পরবর্তীতে মি. আকমল কোম্পানির এমন এক ধরনের শেয়ার ক্রয় করেন যার লভ্যাংশ অন্যান্য শেয়ারের শেষে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ধরনের শেয়ার এর মালিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

  1. ক)

    কোম্পানি নিবন্ধন পত্র কি?

    (1)
  2. খ)

    কোম্পানির সংগঠনের নামের শেষে "লিমিটেড" শব্দ ব্যবহার করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান মি. আকমল কে প্রথম পর্যায়ে কোন ধরনের শেয়ার প্রদান করেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে দ্বিতীয় পর্যায়ের শেয়ার মি. আকমলকে মর্যাদাবান ও শক্তিশালী করে"- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়ায় সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধক কোম্পানিকে আইনগত অস্তিত্ব দিয়ে যে সনদ প্রদান করেন, তাকে কোম্পানির নিবন্ধনপত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা সদস্যদের দায় সীমাবদ্ধ—এই বিষয়টি সাধারণ জনগণ ও তৃতীয় পক্ষকে আইনত অবহিত করার জন্য নামের শেষে 'লিমিটেড' শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

    কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী সীমিত দায়সম্পন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে 'লিমিটেড' বা সংক্ষেপে 'লিঃ' উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে কোম্পানির সাথে লেনদেনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবগত হতে পারে যে, কোনো কারণে কোম্পানির ক্ষতি বা দেনা হলে শেয়ারহোল্ডারদের দায় শুধুমাত্র তাদের কেনা শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা প্রতিশ্রুত অর্থ দ্বারাই সীমাবদ্ধ থাকবে; ব্যক্তিগত সম্পত্তি এর জন্য দায়ী হবে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান মি. আকমলকে প্রথম পর্যায়ে 'প্রবর্তকের শেয়ার' (বা বিলম্বিত দাবিযুক্ত শেয়ার) প্রদান করে।

    কোম্পানি গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবর্তকদের শ্রম, মেধা, প্রাথমিক ব্যয় বা অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যে শেয়ার বরাদ্দ করা হয়, তাকে প্রবর্তকের শেয়ার বলে। এ ধরনের শেয়ার সাধারণত সহজে হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং অন্যান্য শেয়ারমালিকদের লভ্যাংশ বা মূলধন ফেরত দেওয়ার পর অবশিষ্ট থাকলে তবেই এদের দাবি মেটানো হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, মি. আকমল কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন অর্থাৎ তিনি ছিলেন প্রবর্তক। তাঁর প্রাথমিক ব্যয়ের আলোকে কোম্পানি তাঁকে এক ধরনের শেয়ার প্রদান করে, যা আইনগত শর্তানুযায়ী হস্তান্তরযোগ্য নয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি প্রবর্তকের শেয়ারকেই নির্দেশ করে। তাই মি. আকমলকে প্রথম পর্যায়ে প্রবর্তকের শেয়ার দেওয়া হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে দ্বিতীয় পর্যায়ের শেয়ার মি. আকমলকে মর্যাদাবান ও শক্তিশালী করে"—উক্তিটি যথার্থ; কারণ এটি ছিল 'সাধারণ শেয়ার', যা কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করে।

    যে শেয়ারের মালিকগণ কোম্পানির লভ্যাংশ ভোগ ও মূলধন ফেরতের ক্ষেত্রে সবার শেষে অগ্রাধিকার পান, কিন্তু ব্যবসায় পরিচালনা, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও পর্ষদে অংশগ্রহণের একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করেন, তাকে সাধারণ বা সাধারণ শেয়ার (Ordinary/Equity Share) বলা হয়। সাধারণ শেয়ারের মালিকরাই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পরবর্তীতে মি. আকমল এমন শেয়ার ক্রয় করেন যার লভ্যাংশ অন্যান্য শ্রেণির শেয়ারের শেষে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তিনি ভোটাধিকার লাভ করেন এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। এই সব বৈশিষ্ট্য সাধারণ শেয়ারের পরিচায়ক।

    সাধারণ শেয়ার ধারণের মাধ্যমে মি. আকমল কেবল লভ্যাংশের অপেক্ষায় থাকা একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী থাকেননি; বরং ভোটাধিকার ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা পেয়ে কোম্পানির প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রক বা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। পরিচালনা পর্ষদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ তাঁকে প্রতিষ্ঠানের একজন শক্তিশালী নীতিনির্ধারক ও কার্যকর মালিকের মর্যাদা দান করেছে। অতএব, বলা যায় যে দ্বিতীয় পর্যায়ের সাধারণ শেয়ার মি. আকমলকে প্রতিষ্ঠানে মর্যাদাবান ও শক্তিশালী করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন