বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.1.
সারাংশ লেখো: সত্যিকার মানবকল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল। বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভারা সবাই মানবিক চিন্তা আর আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। দুঃখের বিষয়, সে উত্তরাধিকারকে আমরা জীবনে প্রয়োগ করতে পারিনি। বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে লালন প্রমুখ কবি এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল সবাই তো মানবিক চেতনার উদাত্ত কণ্ঠস্বর। বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় উক্তি: "তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?" এক গভীর মূল্যবোধেরই উৎসারণ।
10.2.
ভাবসম্প্রসারণ করো: প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয়, চাই প্রকৃতির সজো মৈত্রীর সম্বন্ধ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: ১০.২ প্রশ্নের 'সজো' শব্দটি মূলত 'সঙ্গে' শব্দের টাইপো বা মুদ্রণজনিত ত্রুটি। | Assumed target words (not original markings): সঙ্গে
১০.১ সারাংশ:
প্রকৃত মানবকল্যাণ গড়ে ওঠে মহৎ মানবিক চেতনার ওপর ভিত্তি করে। আবহমানকাল থেকে বাংলার মনীষী ও কবি-সাহিত্যিকেরা আজীবন সাম্য, সম্প্রীতি ও উদার মানবিক মূল্যবোধের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাস্তব জীবনে আমরা তা কার্যকর করতে পারিনি। সমাজ ও জীবনে প্রকৃত মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে মনীষীদের রেখে যাওয়া এই চিরন্তন মানবিক মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধের চর্চা অপরিহার্য।
১০.২ ভাবসম্প্রসারণ: প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয়, চাই প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ
মূলভাব: মানবসভ্যতার অস্তিত্ব ও বিকাশ প্রকৃতির অকৃপণ দান ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতিকে জয় করার অন্ধ মোহে তার ওপর আধিপত্য বিস্তার না করে প্রকৃতির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখাই মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান শর্ত।
সম্প্রসারিত ভাব: আদিমকাল থেকেই মানবজাতি প্রকৃতির কোলে লালিত-পালিত হয়ে আসছে। আলো, বাতাস, মাটি, পানি ও শ্যামল বনানী দিয়ে প্রকৃতি পরম মমতায় মানুষকে ধারণ করেছে। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে আধুনিক মানুষ আত্মকেন্দ্রিক ও লোভী হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে মানুষ নির্বিচারে বন উজাড় করছে, পাহাড় কাটছে, নদী দূষণ করছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ধ্বংস করছে। মানুষ মনে করে প্রকৃতিকে শাসন করাই বিজ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য; কিন্তু বাস্তব সত্য হলো—প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মানুষের পক্ষে কখনোই বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়।
প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্যে আঘাত হানার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, অসময়ের বন্যা, তীব্র খরা, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো বিপর্যয় আজ মানবজাতিকে অস্তিত্বের সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রকৃতিকে জয় করতে গিয়ে মানুষ মূলত নিজের ধ্বংসকেই ত্বরান্বিত করছে। প্রকৃতি প্রতিশোধপরায়ণ নয়, তবে তার নিয়মে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সেই ভারসাম্যহীনতার আঘাত মানুষের ওপরই নেমে আসে।
সুতরাং মানবজাতির টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করা। টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের স্বার্থে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য: প্রকৃতি ও মানবজীবন পরস্পরের পরিপূরক। প্রকৃতির ওপর কোনো আগ্রাসন বা আধিপত্য নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সৌহার্দ্য ও মৈত্রীর বন্ধনই মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও