উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

পঞ্চগড়ের চা চাষ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্তের সূচনা দিয়েছেন। জলবায়ুর কারণে পঞ্চগড় ইতিমধ্যেই দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার লোকের। কৃষকেরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চা বাগান গড়ে তুলেছে। এতে চাষীদের ৯ মাসের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে।এখানকার চা দেশের বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে। এখানে উৎপাদিত অর্গানিক চা দেশে ও বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছে।

  1. ক)

    সঞ্চয় কি?

    (1)
  2. খ)

    শ্রম বিভাগ কেন প্রয়োজন?

    (2)
  3. গ)

    উৎপাদনের কোন উপকরণের কারণে পঞ্চগড়ের চা বাগান গড়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পঞ্চগড়ের চা চাষ অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে ভূমিকা পালন করবে তার উৎপাদনের উপকরণের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্তমান আয়ের যে অংশ বর্তমান ভোগ বা ব্যয়ে ব্যয় না করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়, তাকে সঞ্চয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজ, গতিশীল এবং অধিক ফলপ্রসূ করার জন্য শ্রম বিভাগ প্রয়োজন। শ্রম বিভাগের মাধ্যমে একটি সামগ্রিক উৎপাদন কাজকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে শ্রমিকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও রুচি অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। এতে কর্মীরা নির্দিষ্ট কাজে বারবার অভ্যস্ত হয়ে বিশেষ দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জন করে, কাজের পুনরাবৃত্তি কমে এবং অপচয় হ্রাস পায়। ফলে উৎপাদনের গতি ও গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদনের মৌলিক উপকরণ 'ভূমি'-এর অনুকূল বৈশিষ্ট্যের কারণে পঞ্চগড়ে চা বাগান গড়ে উঠেছে।

    অর্থনীতিতে উৎপাদনের প্রথম ও অন্যতম মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, যার মধ্যে মাটি, ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিবেশ অন্তর্ভুক্ত। চা এমন একটি অর্থকরী ফসল যা চাষাবাদের জন্য নির্দিষ্ট ধরণের মাটি, নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অনুকূল জলবায়ুর প্রয়োজন হয়।

    উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বিশেষ "জলবায়ুর কারণে" পঞ্চগড় দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পঞ্চগড়ের মাটির গুণাগুণ, আর্দ্রতা এবং উপযুক্ত জলবায়ু প্রকৃতির অকৃত্রিম দান—যা উৎপাদনের ভূমি উপাদানের নির্দেশক। এই ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ চা চাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চা বাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

    অতএব, পঞ্চগড়ে চা বাগান গড়ে ওঠার পেছনে উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ 'ভূমি' (বিশেষ করে এর জলবায়ু ও মাটি) মূল ভূমিকা পালন করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পঞ্চগড়ের চা চাষ অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখবে, তা উৎপাদনের প্রধান চারটি উপকরণের (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন) আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভূমি (Land): পঞ্চগড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ু যা 'ভূমি'র অংশ, চা চাষের মাধ্যমে তার সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে। অনাবাদী বা অপেক্ষাকৃত কম উৎপাদনশীল জমিগুলো এখন অর্থকরী চা উৎপাদনের আওতায় এসেছে।

    ২. শ্রম (Labour): চা চাষের মাধ্যমে পঞ্চগড়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপক অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং চাষীদের ৯ মাসের নিশ্চিত আয়ের পথ সুগম হয়েছে। এটি গ্রামীণ বেকারত্ব হ্রাস ও মানবশ্রমের কার্যকর ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    ৩. মূলধন (Capital): কৃষকদের অর্জিত আয় সঞ্চয় সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে, যা পরবর্তীতে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে মূলধন গঠনে সহায়তা করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অর্গানিক চা রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের মূলধন ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে।

    ৪. সংগঠন (Organization): কৃষকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগে চা বাগান গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা গ্রামীণ উদ্যোক্তা শ্রেণির বিকাশ নির্দেশ করে। দক্ষ উদ্যোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে পঞ্চগড়ের অর্গানিক চা বিশ্ববাজারে সুনাম অর্জন করেছে।

    পরিশেষে বলা যায়, উৎপাদনের প্রতিটি উপকরণের সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে পঞ্চগড়ের চা চাষ স্থানীয় দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন