কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সবুজ সার কী?
- খ)(2)
শস্য পর্যায় কীভাবে মাটির উর্বরতা রক্ষা করে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের C চিহ্নিত মৃত্তিকা কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের A চিহ্নিত মৃত্তিকাতে কোন ধরনের ফসল ভালো জন্মে? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জমিতে কোনো সবুজ উদ্ভিদ বা শিমজাতীয় ফসল ফলিয়ে তা কচি অবস্থায় জমিতে চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে পচিয়ে যে সার তৈরি করা হয়, তাকে সবুজ সার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একই জমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পুষ্টিচাহিদার ফসল চাষ করার পদ্ধতিকে শস্য পর্যায় বলে। শস্য পর্যায় অবলম্বনের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা সুরক্ষিত থাকে। একই ধরনের ফসল বারবার চাষ করলে মাটি থেকে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদান নিঃশেষ হয়ে যায়। কিন্তু শস্য পর্যায়ে শিমজাতীয় ফসল (যেমন- ডাল, শনপাট ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত থাকলে এদের মূলের নডিউলে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়া বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে মাটিতে যুক্ত করে। ফলে মাটির পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য বজায় থাকে, উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন স্তরের মাটির পুষ্টি সুষমভাবে ব্যবহৃত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'C' চিহ্নিত মৃত্তিকা হলো ক্ষারীয় মৃত্তিকা।
মৃত্তিকার pH স্কেলে ৭-এর বেশি মান ক্ষারত্ব নির্দেশ করে। উদ্দীপকে প্রদর্শিত স্কেলে ৭-এর বাম দিকের অংশ 'A' (অম্লীয় মৃত্তিকা), ৫.৫ থেকে ৮.০ পর্যন্ত অংশ 'B' (নিরপেক্ষ বা উপযুক্ত পরিসীমা) এবং ৮-এর পরবর্তী ডান দিকের অংশ 'C' নির্দেশ করছে। যেহেতু 'C' অংশের pH মান ৭ অপেক্ষা বেশি (সাধারণত ৮.০ থেকে ১৪ পর্যন্ত), তাই এটি ক্ষারীয় মৃত্তিকা।
ক্ষারীয় মাটিতে মূলত সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ক্ষারীয় লবণের আধিক্য থাকে। সাধারণত শুষ্ক বা বৃষ্টিহীন উপকূলীয় এলাকায় মাটির ক্ষারত্ব বেশি দেখা যায়। এ ধরনের মাটিতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় অনুখাদ্য যেমন লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা ইত্যাদির সহজলভ্যতা কমে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত মৃত্তিকা হলো অম্লীয় মৃত্তিকা (Acid soil), কারণ এর pH মান ৭-এর নিচে। অম্লীয় মাটিতে সব ধরনের ফসল ভালো না হলেও কিছু নির্দিষ্ট ফসল বেশ ভালো জন্মে। নিচে এ বিষয়ে মতামত উপস্থাপন করা হলো:
১. চা ও কফি: অম্লীয় মাটি চা ও কফি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। চায়ের জন্য মাটির আদর্শ pH হলো ৪.৫ থেকে ৫.৫। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের অম্লীয় পাহাড়ি মাটিতে ব্যাপকভাবে চা চাষ হয়।
২. আনারস ও লেবুজাতীয় ফল: অম্লীয় মাটিতে আনারস, লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু ইত্যাদি ফল খুব ভালো জন্মায়। এসব ফসলের ফলন ও গুণগত মান অম্লীয় পরিবেশে বৃদ্ধি পায়।
৩. আলু ও মিষ্টি আলু: আলু চাষে মৃদু অম্লীয় মাটি (pH ৫.০–৫.৫) থাকলে আলুর স্ক্যাব বা দাদ রোগ কম হয় এবং ফলন ভালো হয়।
৪. ধান: মাঝারি মাত্রার অম্লীয় মাটিতেও কিছু নির্দিষ্ট জাতের ধান ভালো ফলন দেয়।
৫. রাবার ও তুলা: রাবার চাষের জন্য অম্লীয় মাটি উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করে।
পরিশেষে বলা যায়, অধিকাংশ ফসল নিরপেক্ষ বা মৃদু অম্লীয় মাটিতে ভালো হলেও 'A' চিহ্নিত তীব্র বা মাঝারি অম্লীয় মাটিতে চা, আনারস, লেবু, আলু ইত্যাদি অর্থকরী ফসল অত্যন্ত সফলভাবে উৎপাদিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও