ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

পাপিয়া বেগম একজন প্রভাষক। তার দ্বিতল বিশিষ্ট বাড়ির আসবাবপত্রের মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। তিনি বাড়ির আসবাবপত্রের জন্য একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে বাড়ির আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। বিমা কোম্পানি তার বিমা দাবি পরিশোধ করে। বিমা কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত আসবাবপত্র দাবি করলে পাপিয়া বেগম উত্ত দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানায়।

  1. ক)

    অগ্নিজনিত ক্ষতি কী?

    (1)
  2. খ)

    পুনর্বিমা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পাপিয়া বেগম কোন ধরনের অগ্নি বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিমা প্রতিষ্ঠানের দাবির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অগ্নিকাণ্ড বা আগুনের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শের ফলে বিমাকৃত বিষয়বস্তুর যে আর্থিক বা বস্তুগত ক্ষতি সাধিত হয়, তাকে অগ্নিজনিত ক্ষতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যখন কোনো বিমা কোম্পানি কোনো বিমাগ্রহীতার কাছ থেকে ঝুঁকি গ্রহণ করার পর ঝুঁকির মাত্রা কমানোর উদ্দেশ্যে সেই ঝুঁকির সম্পূর্ণ বা আংশিক অংশ অন্য এক বা একাধিক বিমা কোম্পানির নিকট পুনরায় বিমা করে, তখন তাকে পুনর্বিমা (Reinsurance) বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পাপিয়া বেগম 'নির্দিষ্ট মূল্যের অগ্নি বিমাপত্র' (Valued Fire Policy) গ্রহণ করেছেন।

    যে অগ্নি বিমাপত্রে বিমা চুক্তি সম্পাদনকালেই বিমাকৃত সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং ক্ষতির সময় সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য নিরূপণ না করে চুক্তিতে উল্লেখিত নির্ধারিত মূল্যকেই ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে ধরে দাবি পরিশোধ করা হয়, তাকে নির্দিষ্ট মূল্যের অগ্নি বিমাপত্র বলে। সাধারণত যেসব সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি সহজে পরিমাপ করা যায় না (যেমন: প্রাচীন আসবাবপত্র, চিত্রকর্ম ইত্যাদি), সেগুলোর জন্য এ বিমাপত্র নেওয়া হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, পাপিয়া বেগমের আসবাবপত্রের মূল্য ৫ লক্ষ টাকা উল্লেখ করে বিমাপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল এবং আগুনে তা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হলে বিমা কোম্পানি উক্ত বিমাকৃত দাবির সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে। ক্ষতি নির্ধারণের এই নির্দিষ্ট মূল্যায়নের কারণে এটি নির্দিষ্ট মূল্যের অগ্নি বিমাপত্র।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিমা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিগ্রস্ত আসবাবপত্রের ওপর মালিকানা দাবি করার সিদ্ধান্তটি বিমা আইনের 'স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি' অনুসারে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

    ক্ষতিপূরণমূলক বিমা চুক্তির একটি অন্যতম অপরিহার্য নীতি হলো স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি (Principle of Subrogation)। এ নীতি অনুযায়ী, বিমাকৃত সম্পত্তির সম্পূর্ণ ক্ষতির জন্য বিমাকারী যখন বিমাগ্রহীতাকে বিমা চুক্তির শর্তানুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত অবশিষ্ট সম্পত্তির ওপর বিমাগ্রহীতার সমস্ত স্বত্ব বা অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমাকারীর অনুকূলে ন্যস্ত হয়। বিমাগ্রহীতা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষ নিজের কাছে রাখতে পারেন না, কারণ তা রাখলে তিনি ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা বা মুনাফা লাভ করবেন, যা ক্ষতিপূরণের নীতির পরিপন্থী।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে পাপিয়া বেগমের আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ার পর বিমা কোম্পানি বিমা দাবির সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছে। যেহেতু পাপিয়া বেগম পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, তাই অবশিষ্ট আংশিক ভস্মীভূত বা ক্ষতিগ্রস্ত আসবাবপত্রের ওপর তার আর কোনো আইনগত মালিকানা থাকে না। সেই অধিকার এখন বিমা প্রতিষ্ঠানের। সুতরাং বিমা প্রতিষ্ঠানের উক্ত দাবির বিরুদ্ধে পাপিয়া বেগমের অস্বীকৃতি অন্যায্য এবং বিমা কোম্পানির দাবিটি আইনত ও নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন