ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. হোসেন তার ২৫ জন বন্ধু নিয়ে ২০১২ সালের একটি টেক্সটাইল মিল স্থাপন করেন। ভোক্তাদের রুচি এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে আসছে। তাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে ৩০% স্টক ও ২০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ২০১৬ সালে তারা কারখানা সম্প্রসারণের চিন্তা করছে।
- ক)(1)
পরিমেল নিয়মাবলি কী?
- খ)(2)
রাইট শেয়ার কখন প্রদান করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ব্যবসায় সংগঠনটি কোন প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোন উৎস হতে অর্থসংস্থান করা যুক্তিযুক্ত বলে তুমি মনে করো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা এবং দৈনন্দিন কার্যাবলি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার নিয়মকানুন সংবলিত দলিলকে পরিমেল নিয়মাবলি বা সংঘবিধি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যখন নতুন শেয়ার ইস্যু করে এবং বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের তাদের ধারণকৃত শেয়ারের অনুপাতে প্রথমে ক্রয়ের অধিকার প্রদান করে, তখন সেই শেয়ারকে রাইট শেয়ার বলে।
কোম্পানি সম্প্রসারণ বা নতুন প্রকল্প অর্থায়নের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হলে সাধারণত নতুন সাধারণ শেয়ার ইস্যুর পূর্বে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের এই শেয়ার কেনার অগ্রাধিকার বা রাইট প্রদান করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ব্যবসায় সংগঠনটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
যে যৌথ মূলধনী কোম্পানির সদস্যসংখ্যা ন্যূনতম ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং যা জনসাধারণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির আহ্বান জানাতে পারে এবং লভ্যাংশ হিসেবে স্টক ও নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।
উদ্দীপকে মি. হোসেন ও তার ২৫ জন বন্ধু মিলে অর্থাৎ মোট ২৬ জন সদস্য নিয়ে টেক্সটাইল মিলটি স্থাপন করেন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ জন হলেও উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে ৩০% স্টক ও ২০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার ও নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সাধারণ কার্যক্রমের অংশ। এছাড়া ২৬ জন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বৃহদায়তন উৎপাদনমুখী শিল্প। সুতরাং এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির 'রাইট শেয়ার' ইস্যু অথবা 'অবন বণ্টিত মুনাফা/সঞ্চিত তহবিল' ব্যবহার করে অর্থসংস্থান করা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।
বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য রাইট শেয়ার ইস্যু করা হলে কোম্পানি দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে এবং মালিকানার অনুপাতও সংরক্ষিত থাকে। আবার, প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু ভালো মুনাফা করছে এবং বোনাস শেয়ার প্রদান করেছে, তাই তাদের সংরক্ষিত তহবিল ব্যবহার করেও সম্প্রসারণ ব্যয় মেটানো সম্ভব।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সফল এবং ২০১৪ সালে তারা ৩০% স্টক লভ্যাংশ ও ২০% নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক সক্ষমতা ও শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ়। নতুন করে বাজার থেকে ঋণ নিলে সুদের স্থায়ী দায়ভার বৃদ্ধি পাবে, যা ব্যবসায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পক্ষান্তরে, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে 'রাইট শেয়ার' ইস্যু করলে কোনো দীর্ঘমেয়াদি দেনার ঝুঁকি তৈরি হবে না এবং সহজেই প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাড় হবে।
অতএব, আর্থিক ঝুঁকি এড়ানো ও দ্রুত মূলধন সংগ্রহের সুবিধার্থে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের নিকট রাইট শেয়ার বিক্রি অথবা সংরক্ষিত তহবিলের মাধ্যমে অর্থসংস্থান করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পন্থা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও