অর্থনীতি • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি প্রশ্ন

সালমান এম.এ' পাস করেও চাকরি না পেয়ে বেকার বসে আছে। এমতাবস্থায় সে একটি চাকরি নিয়ে 'ক' দেশে যায়। যে দেশে দক্ষ জনশক্তিসহ উন্নত কারিগরি জ্ঞান ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতির সকল খাতে সাফল্য দেখতে পায়।

  1. ক)

    বেকারত্ব কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মানবসম্পদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    "ক" দেশটি উন্নয়নের মাত্রায় কোন শ্রেণিভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশকে "ক" দেশের পর্যায়ে উন্নীত করতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কর্মক্ষম ও কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ না পেলে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়, তাকে বেকারত্ব (Unemployment) বলে।

  2. খ)

    মানবসম্পদ (Human Resource) হলো কোনো দেশের জনসংখ্যার সেই অংশ, যারা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে উৎপাদনমূলক কাজে অংশ নিতে পারে।

    অশিক্ষিত ও অদক্ষ জনগোষ্ঠী কেবল জনসংখ্যা হিসেবে থাকে। কিন্তু তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিলে তারা দেশের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। তখন তাদের মানবসম্পদ বলা হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' দেশে দক্ষ জনশক্তি, উন্নত কারিগরি জ্ঞান এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতির সকল খাতে সাফল্য দেখা যায়। এসব উন্নত দেশের বৈশিষ্ট্য। তাই 'ক' দেশটি উন্নয়নের মাত্রায় উন্নত দেশ (Developed Country) শ্রেণিভুক্ত।

    ব্যাখ্যা: উন্নত দেশে মাথাপিছু আয় বেশি, জীবনযাত্রার মান উচ্চ, শিক্ষার হার প্রায় শতভাগ, শিল্প ও সেবা খাত অগ্রসর এবং প্রযুক্তি অত্যাধুনিক থাকে। দেশের সম্পদের পূর্ণ ও কার্যকর ব্যবহার হয় এবং বেকারত্ব তুলনামূলক কম থাকে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' দেশ একটি উন্নত দেশ। বাংলাদেশকে এই পর্যায়ে নিতে আমার মতে নিচের পদক্ষেপগুলো প্রয়োজন:

    ১. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ: কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাড়ালে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে এবং সালমানের মতো শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমবে।
    ২. মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: সঞ্চয়কে উৎসাহিত করে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে।
    ৩. প্রযুক্তির উন্নয়ন: কৃষি ও শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।
    ৪. সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সুশাসন: দুর্নীতি দমন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৫. অবকাঠামো উন্নয়ন: বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

    যুক্তি হলো, এসব পদক্ষেপে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ে, ফলে আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। অতএব, এগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে 'ক' দেশের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন