ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
সামিন, মাসুম, শফিক তিনজন মিলে একটি গার্মেন্টস গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার জাহিদকে তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে মূলধন ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের অংশীদার করে নেন। সামিন, মাসুম ও জাহিদ ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু শফিক অংশ গ্রহণ করে নি। বছর শেষে শফিক অন্যদের সমান মুনাফা দাবি করে।
- ক)(1)
সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
নাবালক কি অংশীদার হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জাহিদ কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শফিকের মুনাফার দাবি কি যুক্তিযুক্ত? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদারি ব্যবসায়ে অন্তত একজন অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং কমপক্ষে একজন অংশীদারের দায় অসীম থাকে, তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী সাধারণত কোনো নাবালক ব্যবসায়ের পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না।
তবে উক্ত আইনের ৩০ ধারা অনুসারে, সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে নাবালককে কেবল মুনাফার অংশীদার বা ব্যবসায়ের সুবিধার জন্য অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নাবালকের দায় ব্যবসায়ে নিয়োজিত তার অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং সে কোনো ব্যক্তিগত দায়ের জন্য দায়ী হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাহিদ হলেন একজন ‘কর্মী অংশীদার’ (Working Partner)।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো অর্থ বা মূলধন বিনিয়োগ করেন না, কিন্তু নিজের মেধা, বিশেষ দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিনিময়ে চুক্তি অনুযায়ী মুনাফার অংশ বা পারিশ্রমিক পান, তাকে কর্মী অংশীদার বলে।
উদ্দীপকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার জাহিদ তার নিজস্ব দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেই অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য অংশীদারদের সাথে ব্যবসায় পরিচালনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ফলে তিনি কর্মী অংশীদারের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শফিকের অন্যদের সমান মুনাফা দাবি করার বিষয়টি অংশীদারি আইনের দৃষ্টিতে যুক্তিযুক্ত।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ১৩(ক) ধারা অনুসারে, অংশীদারি চুক্তিতে মুনাফা বণ্টনের অনুপাত সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা শর্ত উল্লেখ না থাকলে সকল অংশীদার ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান সমানভাবে ভাগ করে নেওয়ার অধিকারী হন। ব্যবসায়ে কে পরিচালনায় অংশ নিল বা কে নিষ্ক্রিয় থাকল, চুক্তিপত্রে উল্লেখ না থাকলে তার ওপর মুনাফার বণ্টনের অধিকার নির্ভর করে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সামিন, মাসুম, শফিক ও জাহিদের মধ্যে মুনাফা বণ্টন সংক্রান্ত কোনো বিশেষ চুক্তির কথা বলা হয়নি। শফিক ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ না করলেও সে একজন সাধারণ বা ঘুমন্ত অংশীদার হিসেবে বিবেচিত। যেহেতু তাদের মধ্যে মুনাফা বণ্টনের কোনো ভিন্ন অনুপাত নির্ধারিত ছিল না, তাই আইনের বিধান অনুযায়ী শফিক অন্যান্যদের সমান মুনাফা দাবি করতে পারে।
অতএব, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে শফিকের অন্যদের সমান মুনাফা দাবি করা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও