সাহিত্য পাঠ • সাম্যবাদী • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
আবির হোসেন একজন শিক্ষক। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি সবসময় সৎ, শুভ ও সুন্দরের পথে চলার উপদেশ দিতেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে আমরা যে সবাই মানুষ, সেই মানুষের কথা বলতেন, মনুষ্যত্বের কথা বলতেন। তিনি আরও বলতেন, আমি একজন মুসলমান হয়ে শুধু মুসলমান শিক্ষার্থীকে পড়াতে আসিনি। আমি এসেছি সবার শিক্ষক, অর্থাৎ মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে।
- ক)(1)
ঈসা-মুসা কোথায় বসে সত্যের পরিচয় পেলেন?
- খ)(2)
"কিন্তু কেন এ পন্ডশ্রম মগজে হানিছ শূল?" এখানে 'পন্ডশ্রম" কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের "আবির হোসেনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং 'সাম্যবাদী' কবিতায় কবির দৃষ্টিভঙ্গি একই সূত্রে গাঁথা।"- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'সাম্যবাদী' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঈসা-মুসা মানবহৃদয় তথা মানুষের মনের গভীরেই পরম সত্যের পরিচয় পেয়েছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কিন্তু কেন এ পণ্ডশ্রম মগজে হানিছ শূল?" চরণটিতে শাস্ত্রের কঠিন তত্ত্ব ও ধর্মীয় জটিলতা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করে সময় ও শক্তি অপচয় করাকে 'পণ্ডশ্রম' বলা হয়েছে।
মানুষ সত্য ও স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য কত শত ধর্মগ্রন্থ, শাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় বিচার-বিশ্লেষণে মাথা ঘামায় এবং হৃদয়ের সহজ সত্যকে ভুলে গিয়ে জটিলতার ভেতর পথ হারায়। কবি নজরুল মনে করেন, মানুষের নিজের অন্তরেই পরম সত্য বিরাজমান। তাই হৃদয়-মন্দিরকে বাদ দিয়ে পুঁথিপত্র ঘেঁটে সত্য অন্বেষণের এই ব্যর্থ চেষ্টাকে কবি 'পণ্ডশ্রম' ও 'মগজে শূল হানা' বলে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শিক্ষক আবির হোসেনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং 'সাম্যবাদী' কবিতায় কবির দৃষ্টিভঙ্গি উভয়ই ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একই সূত্রে গাঁথা।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম সমস্ত ভেদাভেদ, সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে মানুষকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। তাঁর কাছে মানুষই পরম সত্য; কোনো নির্দিষ্ট জাত, ধর্ম বা সম্প্রদায় দিয়ে মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হতে পারে না। কবি মানুষের মহিমা ও ভালোবাসার জয়গান গেয়েছেন।
উদ্দীপকের আবির হোসেনও একজন শিক্ষক হয়ে সব ধর্ম-বর্ণের শিক্ষার্থীদের কেবল 'মানুষ' হিসেবে দেখেছেন। তিনি মনে করেন, তিনি শুধু কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শিক্ষক নন, বরং মানুষ গড়ার কারিগর। এই দৃষ্টিভঙ্গি নজরুলের মানবতাবাদী সাম্যবাদী দর্শনের সাথে হুবহু মিলে যায়। উভয়ের মধ্যেই অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল সুর অর্থাৎ সার্বজনীন মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতার দিকটি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই—এই শাশ্বত সত্য তুলে ধরেছেন। কবি হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান ইত্যাদি নানা ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানুষকে একমাত্র মানবধর্মের পতাকাতলে আহ্বান জানিয়েছেন। কবি দেখিয়েছেন, সত্য কোনো বাইরের ধর্মগ্রন্থে আবদ্ধ নয়, তা মানুষের অন্তরেই বিরাজ করে এবং মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়।
উদ্দীপকের শিক্ষক আবির হোসেনও তাঁর শিক্ষার্থীদের সৎ, শুভ ও সুন্দরের পথে চলার শিক্ষা দেন এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মনুষ্যত্বের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে বলেন। তিনি নিজ ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে পরিহার করে সবার শিক্ষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, যা নজরুলের "গাহি সাম্যের গান—/ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান" বাণীর বাস্তব প্রতিফলন।
অতএব, উদ্দীপকটিতে 'সাম্যবাদী' কবিতার সংকীর্ণতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবতার জয়গানের দিকটি সুস্পষ্টভাবে বিশ্লেষিত ও প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও