‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের পূর্ব নির্ধারিত ছিল। তাই প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে তারা 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির ভিত্তিতে বলা প্রদেশকে বিভক্ত করে। এতে করে পূর্বাণালের জনগণ খুশি হলেও পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের তীব্র বিরোধিতার কারণে পুনরায় তা বাতিল হয়ে যায়।

  1. ক)

    সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার ফলাফল পূর্ব ও পশ্চিম উভয় প্রদেশের জনজীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের অধীনে সাংবিধানিক উপায়ে ভারতীয় জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবি-দাওয়া উত্থাপন করা এবং সমগ্র ভারতের শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তোলা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' (Partition of Bengal) এবং ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের সাদৃশ্য রয়েছে।

    তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত দিলেও মূলত ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল ও বিভাজিত করার উদ্দেশ্যে ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের আমলে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে দুটি প্রদেশ গঠন করে। এটি ছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতির বাস্তব রূপ।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির মাধ্যমে প্রদেশ বিভক্ত করে। এর ফলে পূর্বের জনগণ সন্তুষ্ট হলেও পশ্চিমাঞ্চলের বিরোধিতার মুখে তা বাতিল করা হয়। এটি অবিকল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং পরবর্তীকালে ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের আমলে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনার প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি তথা বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) এবং এর রদ (১৯১১) ব্রিটিশ ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম প্রদেশের জনজীবনে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।

    পূর্ব প্রদেশের জনজীবনে প্রভাব:
    বঙ্গভঙ্গের ফলে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হলে এবং ঢাকা এর রাজধানী হওয়ায় পূর্বাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। তাদের শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠিত হয়। কিন্তু ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ব বাংলার জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয় এবং তারা ব্রিটিশদের প্রতি আস্থা হারায়। এই বঞ্চনাবোধ থেকেই পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে।

    পশ্চিম প্রদেশের জনজীবনে প্রভাব:
    বঙ্গভঙ্গের ফলে কলকাতার উচ্চবর্ণের হিন্দু মধ্যবিত্ত, জমিদার, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীরা তাঁদের প্রভাব ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা একে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ওপর আঘাত হিসেবে দেখেন এবং এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। এর ফলে স্বদেশি আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলনের সূচনা হয় এবং তা ক্ষেত্রবিশেষে চরমপন্থী ও বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়, যা তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিজয়ের বার্তা নিয়ে আসে।

    সুতরাং, বঙ্গভঙ্গ ও এর রদের ঘটনাটি ব্রিটিশ ভারতের উভয় অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের মধ্যে বিভাজনকে আরও স্পষ্ট ও স্থায়ী করে তুলেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন