বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
অতুলনীয় মাতৃস্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃস্নেহের প্রাবাল্যে মানুষ আপনাকে হারাইয়া আসল শক্তির মর্যাদা বুঝিতে পারে না। নিয়ত মাতৃষেহের অন্তরালে অবস্থান করিয়া আত্মশক্তির সন্ধান সে পায় না—দুর্বল অসহায় পক্ষীশাবকের মতো চিরদিন স্নেহাতিশয্যে আপনাকে সে একান্ত নির্ভরশীল মনে করে। ক্রমে জননীর পরম সম্পদ সন্তান অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়।
- ক)(1)
রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ গল্পের নাম কী?
- খ)(2)
'একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুকভাঙা পণ' – ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সন্তানের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের কোন চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ইতিবাচক মর্মার্থ উপলব্ধির মানসিকতাই 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের পরিবর্তিত জীবনভাবনার উপায় হিসেবে কাজ করেছে।” মন্তব্যটির সার্থকতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গল্পের নাম 'মুসলমানীর গল্প'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুকভাঙা পণ' কথাটি দ্বারা তৎকালীন হিন্দু সমাজের যৌতুকপ্রথার নির্মম বাস্তবতা ও কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার চরম অসহায়তাকে বোঝানো হয়েছে।
সে যুগে উপযুক্ত বর পাওয়া যেমন ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল, তেমনি পাত্রপক্ষের অনমনীয় ও বিপুল যৌতুকের দাবি মেটানো ছিল কন্যার পিতার পক্ষে প্রায় অসম্ভব এক কঠিন পরীক্ষা। অনুপমের মামার মতো যৌতুকলোভী মানুষের কারণে কন্যাপক্ষকে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পরনির্ভরশীল ও অলস সন্তানের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অনুপমের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে অতিরিক্ত মাতৃস্নেহের ছায়ায় বেড়ে উঠে আত্মশক্তি ও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা পরনির্ভরশীল এক নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমও ছোটবেলা থেকেই মায়ের অতিরিক্ত স্নেহে ও মামার অভিভাবকত্বে এমনভাবে প্রতিপালিত হয়েছে যে তার নিজস্ব কোনো মত বা ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠেনি। এম.এ. পাস করা সত্ত্বেও সে পরিবারে ছিল এক নিষ্ক্রিয় অনুগত পুতুল মাত্র। বিয়ের আসরে মামার অন্যায় আচরণের মুখেও সে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। উদ্দীপকের আত্মশক্তিহীন সন্তানের মতোই অনুপম পরিণত বয়সেও ছিল মেরুদণ্ডহীন ও পরনির্ভরশীল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের ইতিবাচক মর্মার্থ উপলব্ধির মানসিকতাই 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের পরিবর্তিত জীবনভাবনার উপায় হিসেবে কাজ করেছে"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে সতর্ক করে দেখানো হয়েছে যে স্নেহের আতিশয্যে আত্মশক্তি ভুলে পরনির্ভরশীল থাকা মনুষ্যত্ব বিকাশের অন্তরায়। এর ইতিবাচক বার্তা হলো আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও নিজস্ব ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো।
'অপরিচিতা' গল্পের প্রথমার্ধে অনুপম উদ্দীপকের নেতিবাচক চরিত্রের প্রতিচ্ছবি ছিল। মামার নির্দেশে সে বিয়ের আসরে নীরব থাকে, যার ফলে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন তাকে কাপুরুষ গণ্য করে বিয়ে ভেঙে দেন। এই চরম অপমানে অনুপমের আত্মচেতনা ও সুপ্ত মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। সে বুঝতে পারে নিজের ব্যক্তিত্বহীনতার কারণেই সে জীবনের চরম প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরপর সে মামার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসে এবং কল্যাণীর দেশব্রতের পথে নিবেদিত হয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় নিজেকে সঁপে দেয়।
অতএব, নিজের আত্মশক্তির অভাব ও দুর্বলতা উপলব্ধি করেই অনুপম শেষ পর্যন্ত স্বাবলম্বী মানসিকতার অধিকারী হয়ে নতুন জীবনভাবনায় দীক্ষিত হতে পেরেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও