ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. সিদ্দীক একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবস্থাপককে তার দেনাদারের নিকট ৪০,০০,০০০ টাকার চেক সংগ্রহের জন্য পাঠালেন। কিন্তু তিনি বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন কারণ টাকার পরিমাণ অনেক বেশি (বড়) ছিল চেকের বাম কোণে সমান্তরাল রেখা দেখে তিনি আশ্বস্ত হলেন।
- ক)(1)
নিকাশ ঘর কী?
- খ)(2)
ব্যাংক নোট ও সরকারি নোট কি একই জিনিস?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে এটি কোন ধরনের চেক? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
এই চেকটির কোনো তাৎপর্য আছে কি? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিকাশ ঘর হলো এমন একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা বা স্থান, যেখানে সদস্য ব্যাংকগুলো একত্রিত হয়ে পরস্পরের মধ্যকার আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, ব্যাংক নোট ও সরকারি নোট এক জিনিস নয়; এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ও প্রচারিত নোটকে ব্যাংক নোট বলা হয়, যেমন বাংলাদেশে ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট। অন্যদিকে, সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরাসরি মুদ্রিত ও প্রচারিত নোটকে সরকারি নোট বলে, যেমন বাংলাদেশে ১, ২ ও ৫ টাকার নোট। ব্যাংক নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে, কিন্তু সরকারি নোটে অর্থ সচিবের স্বাক্ষর থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে ৪০,০০,০০০ টাকার চেকটি একটি 'দাগকাটা চেক' (Crossed Cheque)।
সাধারণত যে চেকের উপরিভাগে বাম কোণে দুটি আড়াআড়ি সমান্তরাল রেখা অঙ্কন করে দেওয়া হয়, তাকে দাগকাটা চেক বলে। এ ধরনের চেকের অর্থ ব্যাংক কাউন্টার থেকে সরাসরি নগদে উত্তোলন করা যায় না; প্রাপকের ব্যাংক হিসাবে জমার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়।
উদ্দীপকে মি. সিদ্দীকের ব্যবস্থাপক দেনাদারের কাছ থেকে যে ৪০,০০,০০০ টাকার চেকটি সংগ্রহ করেন, তার বাম কোণে সমান্তরাল রেখা টানা ছিল। দাগকাটা চেকের এই দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি দাগকাটা চেক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকের চেকটির অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা ও গুরুত্ব রয়েছে, যা ব্যবসায়িক আর্থিক সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।
দাগকাটা চেকের প্রধান তাৎপর্য হলো এর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। সাধারণ খোলা চেক বাহক ব্যাংকে উপস্থাপন করামাত্র নগদ টাকা পেয়ে যায়, ফলে তা চুরি হলে, হারিয়ে গেলে বা ছিনতাই হলে তাৎক্ষণিকভাবে অননুমোদিত ব্যক্তি অর্থ তুলে নিতে পারে। কিন্তু দাগকাটা চেকের অর্থ কাউন্টার থেকে সরাসরি নগদে পাওয়া অসম্ভব; অর্থ কেবল প্রাপকের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে হস্তান্তরিত হয়।
উদ্দীপকে চেকটির মূল্যমান ছিল ৪০,০০,০০০ টাকা, যা অত্যন্ত বড় অঙ্কের অর্থ। এত বিপুল পরিমাণ অর্থের খোলা চেক নিয়ে যাতায়াত করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং উদ্বেগের বিষয় ছিল। কিন্তু চেকটির বাম কোণে আড়াআড়ি সমান্তরাল রেখা (দাগকাটা) দেখে মি. সিদ্দীক আশ্বস্ত হন, কারণ চেকটি কোনো অনভিপ্রেত কারণে হারিয়ে গেলেও তা থেকে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি নগদ অর্থ তুলে নিয়ে পালিয়ে যেতে পারবে না। বরং চেকের টাকা কেবল সুনির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমেই জমা হবে, যার ফলে কোনো অঘটন ঘটলেও অর্থের গতিপথ ও উত্তোলনকারীকে সহজেই শনাক্ত করা যাবে।
সুতরাং, ঝুঁকি এড়ানো, জালিয়াতি রোধ এবং নিরাপদ অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের দাগকাটা চেকটির তাৎপর্য অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও