জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বর্তমানে একটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়া খুব সহজতর হয়েছে। আবার মাইক্রপ্রোপাগেশন পদ্ধতি ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
- ক)(1)
ইউনিট মেমব্রেন কি?
- খ)(2)
ট্রান্সজেনিক জীব বলতে কি বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দিপকে উল্লিখিত প্রথম অংশে যে প্রযুক্তির উল্লেখ করেছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কার্যক্রমটি কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে --- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিজ্ঞানী রবার্টসন (১৯৫৯) এর মতে, প্রোটিন-লিপিড-প্রোটিন স্তর সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ৭৫ Å পুরু বিশিষ্ট একক সজীব ঝিল্লিকে ইউনিট মেমব্রেন (Unit Membrane) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (rDNA) প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো জীবের জিনোমে এক বা একাধিক বাহ্যিক বা অন্য প্রজাতির নির্দিষ্ট কার্যকারী জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে সৃষ্ট নতুন বৈশিষ্ট্যের জীবকে ট্রান্সজেনিক জীব (Transgenic organism) বা Genetically Modified Organism (GMO) বলা হয়। যেমন- বিটি বেগুন, গোল্ডেন রাইস। এর মাধ্যমে উদ্ভিদে বা প্রাণীতে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম অংশে ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ (rDNA) বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তির মূল ধাপসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. কাঙ্ক্ষিত জিন শনাক্তকরণ ও পৃথকীকরণ: মানুষের অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন তৈরিকারী কার্যকরী DNA অংশ শনাক্ত করে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে কেটে পৃথক করা হয়।
২. বাহক নির্বাচন ও কর্তন: ব্যাক্টেরিয়ার (যেমন- E. coli) প্লাজমিড DNA কে বাহক হিসেবে নির্বাচন করা হয় এবং একই রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে কাটা হয়।
৩. রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুতকরণ: ইনসুলিন জিন এবং কর্তিত প্লাজমিডকে ডিএনএ লাইগেজ (DNA Ligase) এনজাইমের সাহায্যে যুক্ত করে রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিড তৈরি করা হয়।
৪. পোষক কোষে প্রবেশ করানো: ট্রান্সফরমেশন পদ্ধতির মাধ্যমে রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিডকে উপযুক্ত পোষক ব্যাক্টেরিয়ার (E. coli) মধ্যে প্রবেশ করানো হয়।
৫. ক্লোনিং ও বাণিজ্যিক উৎপাদন: ট্রান্সফর্মড ব্যাক্টেরিয়াকে উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে ফারমেন্টারে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটানো হয়। ব্যাক্টেরিয়ার সাথে সাথে ইনসুলিন জিনও বৃদ্ধি পেয়ে প্রচুর পরিমাণে মানুষের ইনসুলিন উৎপন্ন করে, যা পরে পৃথক ও বিশুদ্ধকরণ করে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কার্যক্রমটি হলো টিস্যু কালচার বা 'মাইক্রোপ্রোপাগেশন' (Micropropagation) পদ্ধতি। কৃষিক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিটি এক যুগান্তকারী বিপ্লব সৃষ্টি করেছে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দ্রুত ও বিপুল বংশবৃদ্ধি: মাইক্রোপ্রোপাগেশনের মাধ্যমে উদ্ভিদের যেকোনো ক্ষুদ্র এক্সপ্লান্ট (যেমন- শীর্ষ মুকুল, পর্ব) থেকে স্বল্প সময়ে ও সীমিত জায়গায় একই সাথে লাখ লাখ চারা উৎপাদন সম্ভব।
২. রোগমুক্ত ও ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন: উদ্ভিদের শীর্ষ বা মেরিস্টেম কালচারের মাধ্যমে শতভাগ ভাইরাসমুক্ত ও রোগমুক্ত সুস্থ-সবল চারা তৈরি করা যায়, যা ফলন বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
৩. ঋতু নিরপেক্ষ চারা উৎপাদন: নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরি পরিবেশে সারা বছর যেকোনো ঋতুতেই চারা উৎপাদন করা যায়, ফলে মৌসুমের ওপর নির্ভরতা কমেছে।
৪. বিলুপ্তপ্রায় ও সংকটপন্ন উদ্ভিদের সংরক্ষণ: যেসব উদ্ভিদের বীজের অঙ্কুরোদগম হার কম বা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে, মাইক্রোপ্রোপাগেশনের মাধ্যমে সেগুলোকে টিকিয়ে রাখা ও দ্রুত বিস্তার সম্ভব।
৫. উন্নত ও সমগুণসম্পন্ন চারা: টিস্যু কালচারের চারাগুলো ক্লোনাল হওয়ায় মাতৃউদ্ভিদের সমস্ত কাঙ্ক্ষিত গুণাগুণ হুবহু বজায় থাকে।
৬. বাণিজ্যিক ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি: আলু, কলা, স্ট্রবেরি, অর্কিড, পেঁপে ইত্যাদির বাণিজ্যিক চাষাবাদে মাইক্রোপ্রোপাগেশন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে ফসলের ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।অতএব, মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতি কৃষিতে দ্রুত, উন্নতমানের এবং রোগমুক্ত ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও