সাহিত্য পাঠ • সাম্যবাদী • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান! নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
- ক)(1)
বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পীর নাম কী?
- খ)(2)
'আমরা বলি, যাহারই গায়ে জোর নাই, তাহারই গায়ে হাত তুলিতে পারা যায়।'- উদ্ধৃতিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের কোন বিষয়টির সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"বিষয়গত বৈসাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের লেখকের মানসচেতনার প্রতিনিধিত্ব করে।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পীর নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের ভণ্ডামি, কাপুরুষতা ও দুর্বলকে নিপীড়ন করার নির্মম মানসিকতাকে তুলে ধরা হয়েছে।
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ অবস্থায় অন্নপাপের তোয়াক্কা না করে এক জাতের সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী তার সেবা করে সুস্থ করে তোলে। এরপর বিলাসীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে সমাজের মাতব্বর ও সমাজপতিরা মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর চড়াও হয়। কিন্তু যখন তাজা অবস্থায় মৃত্যুঞ্জয় বা বিলাসী প্রতিরোধহীন দুর্বল অবস্থানে ছিল, তখনই সমাজ তাদের জাত যাওয়ার দোহাই দিয়ে বিলাসীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। সমাজের মানুষের এই নীচতা ও দুর্বলকে পেয়ে অন্যায় আঘাত করার প্রবণতা বোঝাতেই লেখক ব্যঙ্গ করে কথাটি বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের জাতিভেদ, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক সংকীর্ণতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে কবি সাম্য ও সার্বজনীন মানবতার জয়গান গেয়েছেন। মানুষের চেয়ে বড় বা মহীয়ান আর কিছুই হতে পারে না। দেশ, কাল, পাত্র কিংবা ধর্ম ও জাতির ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষের সমান মর্যাদার কথা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, 'বিলাসী' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে তৎকালীন হিন্দু সমাজের অমানবিক জাতিভেদ ও বর্ণপ্রথা। সেখানে মানুষের জাত-কুল রক্ষার নামে মানবতা ও ভালোবাসাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন বাঁচানো সত্ত্বেও শুধুমাত্র কায়েত হয়ে সাপুড়ের মেয়ের সেবা গ্রহণ করায় এবং তাকে ঘরে তোলায় সমাজপতিরা ক্ষুব্ধ হয়। তারা বিলাসীকে নির্দয়ভাবে প্রহার করে তাড়িয়ে দেয়। উদ্দীপকে যেখানে সব জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া হয়েছে, গল্পে সেখানে মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়ে জাত-পাত ও সংস্কারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে উদ্দীপকটি গল্পের এই জাতিভেদ ও সংকীর্ণ মানসিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত বা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বিষয়গত বৈসাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'বিলাসী' গল্পের লেখকের মানসচেতনার প্রতিনিধিত্ব করে"— মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে মানুষের সমতা, মর্যাদা এবং ধর্ম-বর্ণের প্রাচীর ভেঙে বিশ্বমানবতার প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। মানুষই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং ভালোবাসার বন্ধনে সবাই এক— এটাই উদ্দীপকের মূল কথা।
'বিলাসী' গল্পে লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন হিন্দু সমাজের সংকীর্ণতা, কুসংস্কার ও বর্ণভেদের যে চিত্র এঁকেছেন, তা মূলত সে সমাজব্যবস্থাকে তীব্রভাবে ব্যঙ্গ ও সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে। লেখক অন্নপাপ বা জাত যাওয়ার মতো ঠুনকো বিষয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সেবাধর্মকে মহিমান্বিত করেছেন। সমাজপতিরা যখন জাতের বড়াই করে বিলাসীকে মারধর করেছে, লেখক তখন ক্ষোভে-বিদ্রূপে তাদের অমানবিকতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। গল্পের কথক ন্যাড়ার জবানিতে লেখক প্রকৃতপক্ষে জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সততা, নিষ্ঠা ও ভালোবাসার জয়গান গেয়েছেন।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজচেতনা গল্পের ঘটনার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হলেও, গল্পের অন্তর্নিহিত সত্য এবং লেখকের নিজের আদর্শ ছিল উদ্দীপকের মতোই মানবতাবাদী। লেখক সমাজের অচলায়তনকে ভেঙে সাম্য ও মানবতার প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি শরৎচন্দ্রের গভীর মানসচেতনারই সার্থক প্রতিনিধিত্ব করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও