অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব জামিল মধুপুরের আনারস দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়ে বিক্রয় করেন। তার ভাই রাজীব যে শিল্প কারখানায় চাকরি করেন সেখানকার উৎপাদিত পণ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রপ্তানি করে দেশের সর্বাধিক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, দেশীয় শ্রমের ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
- ক)(1)
FDI এর পূর্ণরূপ লেখ।
- খ)(2)
তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রসার বিশ্বায়নের সহায়ক - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী রাজিবের বাণিজ্যের তিনটি সুবিধা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামিল ও রাজীবের বাণিজ্যের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকলে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
FDI-এর পূর্ণরূপ হলো Foreign Direct Investment (প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রসার বিশ্বায়নের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত দ্রুত এবং সহজতর করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি যেমন—ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগ ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থ লেনদেন, মূলধন প্রবাহ, জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে উন্মুক্ত হয়েছে, যা বিশ্বায়নকে বাস্তবায়ন ও গতিশীল করতে মূল সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাজীব যে শিল্প কারখানায় কাজ করে, তার উৎপাদিত পণ্য ইউরোপে রপ্তানি হয়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপক অনুযায়ী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের তিনটি প্রধান সুবিধা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: রাজীবের প্রতিষ্ঠানের পণ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে দেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করে।
২. দেশীয় শ্রমের সদ্ব্যবহার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: রপ্তানিমুখী এ শিল্প কারখানায় ব্যাপক হারে দেশীয় শ্রমশক্তি নিয়োজিত রয়েছে। ফলে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পায় এবং শ্রমের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়।
৩. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক বৃদ্ধি: ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যের ফলে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশের সাথে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক জোরদার হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জামিল ও রাজীবের বাণিজ্যের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। জামিলের বাণিজ্যটি হলো অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং রাজীবের বাণিজ্যটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। নিচে তাদের পার্থক্যের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. ভৌগোলিক সীমারেখা: জামিল দেশের এক অঞ্চল (মধুপুর) থেকে পণ্য সংগ্রহ করে অন্য বিভিন্ন শহরে বিক্রয় করেন, যা একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে, রাজীবের কারখানার পণ্য দেশের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়, অর্থাৎ এটি আন্তর্জাতিক সীমানায় বিস্তৃত।
২. মুদ্রার ব্যবহার: জামিলের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে একই দেশের নিজস্ব একক মুদ্রা (টাকা) ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাজীবের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা (যেমন—ইউরো, ডলার ইত্যাদি) তথা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন হয়।
৩. আইন ও বিধিনিষেধ: জামিলের বাণিজ্যে কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ম-কানুন প্রযোজ্য এবং কোনো শুল্ক বা আন্তর্জাতিক বাধানিষেধের মুখোমুখি হতে হয় না। অপরদিকে, রাজীবের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক, কোটা, গুণগত মানের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য নীতি মেনে চলতে হয়।
৪. অর্থনৈতিক প্রভাব: জামিলের বাণিজ্য দেশের ভেতরে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, রাজীবের বাণিজ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট যে জামিল অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং রাজীব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত, যাদের পরিধি, মাধ্যম ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও