বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

ইউনেস্কো সম্প্রতি বাঙালি জাতির মহান একজন নেতার একটি ভাষণকে আন্তর্জাতিক সলিল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এই ভাষণটি সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

  1. ক)

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে সর্বমোট কতটি আসন লাভকরেছিল?

    (1)
  2. খ)

    অপারেশন সার্চলাইট কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ঐতিহাসিক কোন ভাষণকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    "বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে উত্ত ভাষণটির তাৎপর্য অপরিসীম।" ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করেছিল (সাধারণ আসন ১৬০টি)।

  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর যে গণহত্যা চালায়, তার সামরিক নাম অপারেশন সার্চলাইট। ১৮ মার্চ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী এর নীলনকশা তৈরি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছাত্রসমাজ ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। এই রাত ‘কালরাত্রি’ নামে পরিচিত।

  3. গ)

    উদ্দীপকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কো এ ভাষণকে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    ১. ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে তিনি এ ভাষণ দেন।
    ২. ভাষণে তিনি চার দফা দাবি তোলেন: সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফেরত নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
    ৩. তিনি ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

    উদ্দীপকের বর্ণনা (মুক্তিযুদ্ধে জনগণকে অনুপ্রাণিত করা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি) এ ভাষণের সাথেই মিলে যায়।

  4. ঘ)

    ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অপরিসীম। কারণ—

    ১. স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা: এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামের ঘোষণা দেন এবং ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো’ বলে জনগণকে প্রস্তুত হতে বলেন।
    ২. অসহযোগ আন্দোলনের প্রেরণা: ভাষণের পরদিন থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং খাজনা-ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়।
    ৩. ঐক্য ও অনুপ্রেরণা: এ ভাষণ সব শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করে।
    ৪. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: ইউনেস্কো একে বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    সুতরাং, ৭ই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা অর্জনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন