সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি সেবামূলক সংস্থায় কর্মরত সাবিলা নূর একজন দক্ষ সমাজকর্মী। কোনো সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি তার নিকট সহায়তার জন্য এলে তিনি তাদের আন্তরিকতার সাথে মর্যাদা সহকারে গ্রহণ করেন। সমস্যা সমাধানে জোরপূর্বক কোন সমাধান চাপিয়ে না দিয়ে তাদের মতামতের মূল্য ও মর্যাদা দেন এবং তাদের মতামতের মূল্যু ও মর্যাদা দেন এবং তাদের দেওয়া তথ্য গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। ফলে সেবা গ্রহীতাদের সাথে তার সহজেই সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সমস্যার ফলঞ্জ সমাধান সহজ হয়।
- ক)(1)
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন কত সালে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
পেশাগত সম্পর্ক ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাবিলা নূরের কার্যক্রমে যেসব মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে সেগুলো চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
"সমাজকর্ম পেশার মর্যাদা লাভে উক্ত মূল্যবোধগুলোই যথেষ্ট নয়"- তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন ১৮২৯ সালে প্রণীত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্মে 'পেশাগত সম্পর্ক' (Rapport) বলতে সেবাগ্রহীতা বা সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সমাজকর্মী এবং সাহায্যার্থীর মধ্যে গড়ে ওঠা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক, সচেতন ও উদ্দেশ্যপূর্ণ সুসম্পর্ককে বোঝায়। এটি কোনো ব্যক্তিগত বা আবেগপ্রবণ সম্পর্ক নয়, বরং সমাজকর্মের নীতিমালা, মূল্যবোধ ও পেশাগত নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি কার্যকর ও আস্থার সম্পর্ক, যার মাধ্যমে সাহায্যার্থী তার সমস্যা অকপটে তুলে ধরতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাবিলা নূরের কার্যক্রমে সমাজকর্ম পেশার মৌলিক মূল্যবোধগুলোর প্রতিফলন ঘটেছে। এগুলো হলো:
১. ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি: সাবিলা নূর সেবাগ্রহীতাদের আন্তরিকতা ও মর্যাদার সাথে গ্রহণ করেন, যা সমাজকর্মের মানুষের অন্তর্নিহিত মর্যাদা ও মূল্যের স্বীকৃতির প্রতিফলন।
২. আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার: তিনি সেবাগ্রহীতাদের ওপর জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে তাদের নিজস্ব মতামতের মূল্য দেন এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার সুযোগ দেন।
৩. গোপনীয়তা রক্ষা: তিনি সাহায্যার্থীর প্রদত্ত তথ্য গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন, যা সমাজকর্মের গোপনীয়তা রক্ষার মূল্যবোধ নির্দেশ করে।এসব মূল্যবোধ অনুশীলনের ফলে সাহায্যার্থীর সাথে সমাজকর্মীর দৃঢ় পেশাগত সম্পর্ক (র্যাপো) স্থাপিত হয় এবং সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মূল্যবোধগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমাজকর্মকে একটি পূর্ণাঙ্গ পেশার মর্যাদা প্রদানে কেবল এই মূল্যবোধগুলোই যথেষ্ট নয়—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
একটি বৃত্তিকে পেশার মর্যাদায় উন্নীত হতে হলে কতগুলো অপরিহার্য পেশাগত মানদণ্ড পূরণ করতে হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১. সুশৃঙ্খল ও বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক জ্ঞানভাণ্ডার;
২. পেশাগত নৈপুণ্য, দক্ষতা ও প্রায়োগিক কৌশল;
৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ;
৪. পেশাগত সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনগত ভিত্তি;
৫. একটি শক্তিশালী পেশাজীবী সংগঠন এবং পেশাগত আচরণবিধি (Code of Ethics);
৬. জনকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ।উদ্দীপকে সাবিলা নূর যে মূল্যবোধগুলো (ব্যক্তির মর্যাদা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, গোপনীয়তা ইত্যাদি) প্রদর্শন করেছেন, তা সমাজকর্মের ব্যবহারিক ও নৈতিক ভিত্তি। কিন্তু কেবল মূল্যবোধ থাকলেই কোনো কার্যক্রম পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না; তার সাথে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি (যেমন—ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সম্প্রদায় সংগঠন), তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সক্রিয় সমন্বয় আবশ্যক। সুতরাং, সমাজকর্মের পেশাগত পূর্ণাঙ্গ রূপ ও মর্যাদা অর্জনে মূল্যবোধের পাশাপাশি অন্যান্য পেশাগত উপাদানের উপস্থিতি অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও