অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মিজান একজন স্বল্প আয়ের মানুষ। তিনি বাজারে গিয়ে লক্ষ করলেন, দিন দিন চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের 'দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যে সরকার পণ্যের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ, উৎপাদকদের ভর্তুকি প্রদান, ন্যায্যমূল্যে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কী?
- খ)(2)
অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে পণ্যের দাম বৃদ্ধি অর্থনীতির যে বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাজারে পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে উদ্দীপকে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহ কি যথেষ্ট? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সূচক সংখ্যা হলো এমন একটি সংখ্যা বা পরিসংখ্যানিক পরিমাপ, যার সাহায্যে সময়ের ব্যবধানে বা স্থানভেদে সম্পর্কিত কোনো চলক বা চলক সমষ্টির মানে যে আপেক্ষিক পরিবর্তন ঘটে তা পরিমাপ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের যোগান বা সরবরাহ বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। ক্লাসিক্যাল ও মুদ্রাবাদী অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার উৎপাদন অপরিবর্তিত থেকে যদি অর্থের সরবরাহ বাড়ে, তবে মানুষের হাতে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক যোগান অপেক্ষা বেশি হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত চাহিদার চাপে পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং অর্থের মূল্য হ্রাস পায়। অর্থাৎ অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ হলে দামস্তরও দ্বিগুণ হয়, যা মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির 'মুদ্রাস্ফীতি' (Inflation) ধারণাকে নির্দেশ করে।
অর্থনীতিতে সাধারণভাবে দ্রব্য ও সেবার মূল্যের ক্রমাগত ও দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধিকে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পায় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য ক্রয়ে আগের চেয়ে অধিক অর্থ ব্যয় করতে হয়।
উদ্দীপকে স্বল্প আয়ের মিজান বাজারে গিয়ে দেখেন যে চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম দিন দিন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামগ্রিক মূল্যস্তরের এ ধরনের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতিই হলো মুদ্রাস্ফীতি। এটি বিশেষ করে মিজানদের মতো নির্দিষ্ট বা স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয় এবং জীবনযাত্রার মান হ্রাস করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাজারে পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সহায়ক হলেও এককভাবে সম্পূর্ণ যথেষ্ট নয়।
উদ্দীপকে সরকার পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে উৎপাদনকারীদের ভর্তুকি প্রদান, ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ এবং খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি (OMS) চালু করেছে। এসব পদক্ষেপ মূলত স্বল্পমেয়াদে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘব করে এবং উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমিয়ে যোগান বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
তবে মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু প্রত্যক্ষ বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; এর সাথে কার্যকর আর্থিক ও রাজস্ব নীতি প্রয়োজন। বাজারে মুদ্রার অতিরিক্ত সরবরাহ কমাতে সুদের হার বৃদ্ধি, ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি রাজস্ব নীতির মাধ্যমে সরকারের অনুৎপাদনশীল ব্যয় কমানো, কর কাঠামোর যৌক্তিক সংস্কার এবং সিন্ডিকেট বা অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর বাজার তদারকি অপরিহার্য। এছাড়া আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধির ব্যবস্থা না করলে দাম স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারি পদক্ষেপসমূহ প্রয়োজনীয় হলেও অন্যান্য মৌলিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি ছাড়া তা একা যথেষ্ট নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও