উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
গননপুর গ্রামটি আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। ফলে এই গ্রামের অধিকাংশ জনগণ পেশায় জেলে। ব্যবসায় হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তারা নদী থেকে মাছ আহরণ করে সরাসরি ঢাকায় সরবরাহ করে। মাথায় ন্যায্য মূলক প্রাপ্তি এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য।
- ক)(1)
উৎপাদনের উপকরণ কী?
- খ)(2)
"শ্রমবিভাগ যোগ্যতা অনুসারে কাজ বন্টন করে"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
গননপুর গ্রামের অধিকাংশ জনগণ জেলে হওয়ার পেছনে উৎপাদনের কোন উপকরণের ভূমিকা রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে উদ্দীপকে উল্লেখিত সংগঠনের ধরন উল্লেখপূর্বক এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো কিছু উৎপাদনের জন্য যা কিছু ব্যবহৃত বা প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে (যেমন: ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রমবিভাগ প্রক্রিয়ায় একটি জটিল উৎপাদন কাজকে বিভিন্ন ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে শ্রমিকের বিশেষ দক্ষতা, শিক্ষা ও সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এতে প্রত্যেক শ্রমিক তার নিজস্ব ক্ষেত্রে পারদর্শী হয়ে ওঠে, কাজের অপচয় হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এজন্য বলা হয় শ্রমবিভাগ যোগ্যতা অনুসারে কাজ বণ্টন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গননপুর গ্রামের অধিকাংশ জনগণের জেলে হওয়ার পেছনে উৎপাদনের 'ভূমি' উপকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অর্থনীতিতে উৎপাদনের প্রথম ও অন্যতম মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, যা কেবল মাটিকে বোঝায় না; বরং মাটি, নদ-নদী, পানি, প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদি প্রকৃতির সমস্ত দানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত গননপুর গ্রামটি আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত এবং এই নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। নদী ও নদীতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ সরাসরি প্রকৃতির দান তথা 'ভূমি' উপকরণের অন্তর্গত। এই প্রাকৃতিক সম্পদের সহজলভ্যতা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই গ্রামের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মাছ ধরার পেশা তথা জেলে পেশাকে প্রধান জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে ভূমির ভূমিকাই প্রধান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংগঠনটি হলো একটি 'সমবায় সমিতি' (বা উৎপাদক সমবায় সমিতি)। ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে এ ধরনের সংগঠন অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমমনা বা সমপেশার ব্যক্তিবর্গ নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে যে ব্যবসায় সংগঠন গড়ে তোলে, তাকে সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকের জেলেরা মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া-ব্যবসায়ীদের শোষণ ও ঠকানো থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছে। সংগঠনটি নদী থেকে আহরিত মাছ সরাসরি ঢাকায় সরবরাহ করে। ফলে মধ্যবর্তী দালাল ও ফড়িয়াদের মুনাফা অর্জনের সুযোগ বন্ধ হয়েছে এবং ভোক্তাদের পরিশোধিত মূল্যের ন্যায্য অংশ সরাসরি উৎপাদক বা জেলেদের হাতে পৌঁছাচ্ছে।
সাধারণত এককভাবে কাজ করলে জেলেরা স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কিন্তু সমবায়ের মাধ্যমে একতাবদ্ধ হয়ে বড় বাজারে সরাসরি বিপণন করায় তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর হয়েছে। অতএব, সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের বিলোপ ঘটিয়ে উৎপাদিত মাছের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও