‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনপ্রিয় মহান নেতা ফজলে এলাহীর দল দেশের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে। ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে তাকে গ্রেফতার করে এবং নিরীহ দেশবাসীর উপর অতর্কিত হামলা করে। স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে বীর জাতি স্বাধীনতাররক্তিম সূর্য ছিনিয়ে আনে ।

  1. ক)

    পাকিস্তানে সামরিক শাসন প্রথম কত সালে জারি করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ভাষা আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে তার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত “বীর জাতির মুক্তির লড়াই” তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পাকিস্তানে প্রথম ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর সামরিক শাসন জারি করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে পরিচালিত ঐতিহাসিক গণআন্দোলন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করলে পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন এবং এর মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনটি হলো ঐতিহাসিক ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম:
    ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়: এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন (সাতটি সংরক্ষিত নারী আসনসহ) লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে বাঙালি জাতির ওপর ছয়দফা ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পক্ষে জনগণের সুস্পষ্ট গণরায় প্রতিফলিত হয়।
    ২. পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি দুর্বল হওয়া: আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় প্রমাণ করে যে বাঙালি জাতি আর পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন মানতে রাজি নয়।
    ৩. স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্র প্রস্তুত: এই বিজয় আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে সমগ্র বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত মুখপাত্র হিসেবে সাংবিধানিক বৈধতা দেয়, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত “বীর জাতির মুক্তির লড়াই” বলতে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করা সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন এবং অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা করেন।

    এরপর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বর 'অপারেশন সার্চলাইট' চালিয়ে গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হলেও বীর বাঙালি জাতি প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুজিবনগর সরকার গঠন করে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা ও বীরত্বে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে দেশ শত্রুমুক্ত হয়। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় লাল-সবুজের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত এই বীরত্বগাথাই উদ্দীপকের মুক্তির লড়াইয়ে মূর্ত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন