রসায়ন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
আয়নিক গুণফলের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
HNO3 \mathrm{HNO}{3} এসিড H3PO4 \mathrm{H}{3} \mathrm{PO}_{4} এসিড অপেক্ষা শক্তিশালী— ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
আখের রস থেকে A যৌগটির উৎপাদন প্রণালি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
খাদ্য সংরক্ষণে A যৌগের জলীয় দ্রবণের কোনো ভূমিকা আছে কি? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো স্বল্প দ্রবণীয় বা যেকোনো তড়িৎ বিশ্লেষ্যের দ্রবণে উপস্থিত উপাদান আয়নসমূহের যথোপযুক্ত ঘাতসহ মোলার ঘনমাত্রার গুণফলকে ঐ দ্রবণের আয়নিক গুণফল () বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অক্সো-এসিডসমূহের তীব্রতা তাদের কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ সংখ্যা যার বেশি, সেই এসিডটি তত বেশি শক্তিশালী।
এসিডে কেন্দ্রীয় পরমাণু নাইট্রোজেনের () জারণ মান:
অন্যদিকে এসিডে কেন্দ্রীয় পরমাণু ফসফরাসের () জারণ মান:
উভয় এসিডেই কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ সংখ্যা একই (+5)। কিন্তু নাইট্রোজেন () পরমাণুর আকার ফসফরাস () পরমাণুর আকারের চেয়ে ছোট হওয়ায় নাইট্রোজেনের ধনাত্মক চার্জের ঘনত্ব ফসফরাসের তুলনায় অনেক বেশি হয়। ফলে -এর নাইট্রোজেন পরমাণু অক্সিজেন-হাইড্রোজেন বন্ধনজোড় ইলেকট্রনকে নিজের দিকে বেশি আকর্ষণ করে এবং সহজে দ্রবণীয় মাধ্যমে দান করতে পারে। তাই এসিড অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিক্রিয়ায় অ্যাসিটোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে অ্যালকোহল জারিত হয়ে মধ্যবর্তী যৌগ ইথান্যাল () এবং পরবর্তীতে 'A' যৌগ হিসেবে অ্যাসিটিক এসিড () উৎপন্ন হয়। নিম্নে আখের রস থেকে অ্যাসিটিক এসিডের উৎপাদন প্রণালি বর্ণনা করা হলো:
১. গাঁজন বা সন্ধান (Fermentation) প্রক্রিয়ায় ইথানল উৎপাদন:
আখের রসে প্রধান উপাদান হিসেবে সুক্রোজ বা চিনি () থাকে। আখের রসের সাথে ইস্ট (Yeast) যোগ করে ২০°-৩০°C তাপমাত্রায় রেখে দিলে ইস্ট নিঃসৃত ইনভার্টেজ এনজাইম সুক্রোজকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত করে:
এরপর ইস্ট নিঃসৃত জাইমেজ এনজাইম গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজকে ভেঙে ইথাইল অ্যালকোহলে রূপান্তরিত করে:
২. ব্যাকটেরিয়ার জারণ প্রক্রিয়ায় অ্যাসিটিক এসিড উৎপাদন:
উৎপন্ন লঘু ইথাইল অ্যালকোহলের দ্রবণে সামান্য মাইকোডার্মা অ্যাসিটি বা অ্যাসিটোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া কালচার যোগ করে বায়ুর পর্যাপ্ত প্রবাহ রাখা হয় এবং ৩০°-৩৫°C তাপমাত্রায় রাখা হয়। ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে অ্যালকোহল জারিত হয়ে অ্যাসিটিক এসিড () তৈরি করে:
এভাবে আখের রস থেকে অ্যাসিটিক এসিড প্রস্তুত করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' যৌগটি হলো ইথানয়িক বা অ্যাসিটিক এসিড ()। অ্যাসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। খাদ্য সংরক্ষণে এই ভিনেগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে এর কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি:
অ্যাসিটিক এসিড খাদ্যদ্রব্যে যোগ করলে তা আংশিক বিয়োজিত হয়ে প্রোটন () দান করে:
এর ফলে খাদ্যদ্রব্যের pH মান কমে ৩.০ থেকে ৪.০-এর মধ্যে চলে আসে। অধিকাংশ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব নিরপেক্ষ বা সামান্য ক্ষারীয় পরিবেশে (pH ৬.৫ - ৭.৫) বংশবৃদ্ধি করে। pH ৪.৫ এর নিচে নামলে এসব অণুজীবের বৃদ্ধি ও কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।২. ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ভেদ ও প্রোটিন বিকৃতিকরণ:
অ্যাসিটিক এসিডের অবিয়োজিত অংশ অণুজীবের লিপিডসমৃদ্ধ কোষপ্রাচীর সহজে ভেদ করে কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে। কোষের ভেতরে গিয়ে এটি বিয়োজিত হয়ে কোষীয় pH হ্রাস করে। এর ফলে অণুজীবের অভ্যন্তরীণ এনজাইম ও প্রোটিন অকার্যকর বা বিনষ্ট (denature) হয়ে অণুজীবের মৃত্যু ঘটে।৩. আর্দ্রতাজনিত অবনতি রোধ:
ভিনেগারের অম্লীয় মাধ্যমের কারণে খাদ্যদ্রব্যের নিজস্ব পচনশীল উৎসেচকগুলোর (Enzyme) স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়, ফলে খাদ্যের মান অক্ষুণ্ণ থাকে।সুতরাং আচার, সস, ফলমূল, মাছ, মাংস প্রভৃতি দীর্ঘকাল ভালো রাখার জন্য A যৌগের জলীয় দ্রবণ অর্থাৎ ভিনেগার অত্যন্ত কার্যকর খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও