অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রহমান সাহেব দেশের নামকরা শিল্পোদ্যোক্তা। তিনি চামড়াজাত দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করে প্রচুর আয় করেন। তার কারখানায় অনেক লোক কাজ করে। গত বছর রপ্তানি মেলায় রহমান সাহেব পুরস্কৃত হন।

  1. ক)

    হাইটেক শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পাট শিল্প কীভাবে তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শিল্পটির ধরণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে আলোচিত শিল্পটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উচ্চ প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করে এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের সমন্বয়ে যে শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে হাইটেক শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজারজাতকরণের মাধ্যমে পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।

    পাট দিয়ে কেবল বস্তা বা সুতা নয়, আধুনিক গৃহসজ্জা সামগ্রী, পরিবেশবান্ধব সোনালী ব্যাগ, জুতো ও পোশাক তৈরির বহুমুখী কারখানা স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রচারণা বাড়িয়ে এবং আন্তর্জাতিক বিপণন জোরদার করে পাট শিল্প তার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি হলো চামড়া শিল্প, যা বাংলাদেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী ও মাঝারি/বৃহৎ কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প।

    যেসব শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে চামড়া ব্যবহৃত হয় এবং উৎপাদিত পণ্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয়, তাকে চামড়া বা ট্যানারি শিল্প বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রহমান সাহেব দেশের একজন সফল উদ্যোক্তা যিনি চামড়াজাত দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। চামড়া শিল্পে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং এর উৎপাদন প্রক্রিয়া শ্রমঘন। ফলে রহমান সাহেবের প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আলোচিত চামড়া শিল্প বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি খাত।

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে চামড়া শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বাংলাদেশের উৎপাদিত চামড়াজাত জুতা, ব্যাগ, জ্যাকেট ইউরোপসহ বিশ্বের বহু দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে।
    ২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, রহমান সাহেবের কারখানায় বহু লোক কাজ করে। শ্রমঘন এ শিল্পে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক।
    ৩. দেশীয় কাঁচামালের সদ্ব্যবহার: বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া পাওয়া যায়, বিশেষ করে কোরবানির সময়ে। চামড়া শিল্প এই কাঁচামালের সঠিক প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করে মূল্য সংযোজন ঘটায়।
    ৪. শিল্পায়ন ও জিডিপিতে অবদান: চামড়া খাতের বিকাশ পশ্চাৎপদ লিংকেজ শিল্পের বিকাশ ঘটায় এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

    সুতরাং, পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে আধুনিক ট্যানারি শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটালে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন