ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. বাইরন একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তাঁর বন্ধু করিমসহ আরো ১০ জন বন্ধু নিয়ে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মি. বাইরন বলেন, তিনি ব্যবসায় পরিচালনায় অংশ নিতে পারবেন না এবং বিনিয়োগের অতিরিক্ত দায় গ্রহণ করবেন না। তবে, বছরশেষে প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিরীক্ষার কাজটি করবেন। সর্বসম্মতি ক্রমে জনাব করিমকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী দেনাদার ৫০,০০০ টাকা না দেয়ায় জনাব করিম তা আদায় সমর্থ হন।
- ক)(1)
অংশীদারি ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
নাবালক অংশীদার হতে পারে কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
বাইরন কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
জনাব করিমের পাওনা টাকা আদায়ে সফল হওয়ার কারণটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ নিয়মে নাবালক চুক্তিসম্পাদনের অযোগ্য হওয়ায় সে অংশীদারি ব্যবসায়ের পূর্ণাঙ্গ অংশীদার হতে পারে না। তবে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী, সকল বিদ্যমান অংশীদারের সর্বসম্মত সম্মতিক্রমে কেবলমাত্র ব্যবসায়ের মুনাফা ও সুবিধার অংশীদার হিসেবে একজন নাবালককে অংশীদারি কারবারে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এ ক্ষেত্রে তার দায় কেবল ব্যবসায়ে বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, তার কোনো ব্যক্তিগত দায় সৃষ্টি হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. বাইরন হলেন একজন 'সীমিত অংশীদার' (Limited Partner)।
যে অংশীদারি ব্যবসায়ে কোনো অংশীদারের দায় চুক্তির শর্তানুসারে বা আইনগতভাবে ব্যবসায়ে তার বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে এবং যিনি ব্যবসায় পরিচালনায় সরাসরি অংশ নেন না, তাকে সীমিত অংশীদার বলে। তবে সীমিত অংশীদার প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বই দেখার বা নিরীক্ষা করার অধিকার রাখেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. বাইরন প্রতিষ্ঠানটি গঠনে যুক্ত হলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি দৈনন্দিন পরিচালনায় অংশ নেবেন না এবং বিনিয়োগের অতিরিক্ত কোনো দায় বহন করবেন না। তবে তিনি বছরশেষে হিসাব-নিরীক্ষার কাজটি করবেন। সীমিত অংশীদারের এসব বৈশিষ্ট্য (দায় সীমাবদ্ধ থাকা, পরিচালনায় অংশ না নেওয়া এবং হিসাব নিরীক্ষার অধিকার রাখা) মি. বাইরনের মধ্যে বিদ্যমান থাকায় তিনি একজন সীমিত অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব করিমের পাওনা টাকা আদায়ে সফল হওয়ার মূল কারণ হলো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি 'নিবন্ধিত' ছিল এবং অংশীদারি আইনের বিধান অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান ছিল।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুসারে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়, তবে একটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কোনো তৃতীয় পক্ষ বা দেনাদারের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার বেশি পাওনা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যদি নিবন্ধিত হয়, তবে চুক্তি থেকে উদ্ভূত অধিকার আদায়ের জন্য তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ বা মামলা করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন প্রভাবশালী দেনাদার ৫০,০০০ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিচালক হিসেবে জনাব করিম তা আদায়ে সমর্থ হন। যেহেতু প্রভাবশালী দেনাদারের কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকার মতো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া স্বাভাবিক অনুরোধে আদায় করা কঠিন, সেহেতু জনাব করিমের এই সাফল্য নির্দেশ করে যে প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত ছিল বা আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়ার বৈধ অধিকার তার ছিল। ফলে আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত থাকার কারণে বা আইন প্রয়োগের ভয় ও সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি সফলভাবে দেনাদারের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পেরেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও